কোহলির স্নেহে সিক্ত সুরিয়াভানশি

১৫ বছরের এক কিশোরের কাছে আজ পরাস্ত হয়েছিল কিং কোহলির সাম্রাজ্য, অথচ সেই কিশোরই যখন ক্যাপ হাতে সামনে দাঁড়াল, বিরাট মেলে ধরলেন তাঁর হৃদয়ের বিশালতা।

বয়সের খাতায় সংখ্যাটি মাত্র ১৫, কিন্তু ব্যাটের ধার যেন কোনো ঝানু যোদ্ধার তলোয়ারকেও হার মানায়। আইপিএল ২০২৬ এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (আরসিবি) এক প্রকার খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল রাজস্থান রয়্যালস। আর এই ধ্বংসলীলার নায়ক বিহারের সমস্তিপুরের সেই কিশোর – বৈভব সুরিয়াভানশি। ম্যাচ শেষে পেলেন বিরাট কোহলির বড় ভাই সুলভ উৎসাহ।

২০২ রানের বিশাল পাহাড় টপকাতে নেমে ভুবনেশ্বর কুমার বা জশ হ্যাজেলউডের মতো বোলারদের বিন্দুমাত্র সমীহ করেননি বৈভব। পাওয়ারপ্লের ভেতরেই তাঁদের ওপর এমন স্টিমরোলার চালালেন যে অভিজ্ঞ এই দুই পেসার কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। বৈভবের নির্ভীক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় শুরুতেই।

মাঠে নিজের দলকে হারতে দেখাটা বেদনার হলেও, ক্রিকেটের বিশুদ্ধ সৌন্দর্যকে কুর্নিশ জানাতে ভুল করেননি বিরাট কোহলি। ম্যাচ শেষে দেখা গেল এক অনন্য মুহূর্ত। আধুনিককালে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা যেন তাঁরই এক উত্তরসূরিকে প্রতিপক্ষ হওয়া সত্ত্বেও আপন করে নিলেন।

বৈভব নিজের রাজস্থান রয়্যালসের ক্যাপটি বাড়িয়ে দিলেন কিং কোহলির দিকে। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার হাসিমুখে সেই ক্যাপে স্বাক্ষর করলেন এবং স্নেহের পরশে লিখে দিলেন, ‘প্রিয় বৈভব, খুব ভালো খেলেছ।’ মাঠের লড়াই শেষে বড় ভাইয়ের মতো কোহলির এই উৎসাহমূলক বার্তা যেন ম্যাচের হার-জিতকেও ছাপিয়ে গেল।

এই ইনিংসের মাধ্যমে সতীর্থ যশস্বী জয়সওয়ালকে পেছনে ফেলে অরেঞ্জ ক্যাপ নিজের মাথায় তুলে নিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। চার ম্যাচে ২০০ রান – এর মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৫ বলে আসা দুটি বিধ্বংসী হাফ-সেঞ্চুরি

দিনশেষে স্কোরবোর্ডের সংখ্যাগুলো ফিকে হয়ে আসে, অমর হয়ে রয় কেবল রাজকীয় কিছু মুহূর্ত। ১৫ বছরের এক কিশোরের কাছে আজ পরাস্ত হয়েছিল কিং কোহলির সাম্রাজ্য, অথচ সেই কিশোরই যখন ক্যাপ হাতে সামনে দাঁড়াল, বিরাট মেলে ধরলেন তাঁর হৃদয়ের বিশালতা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link