আইপিএল আর জাসপ্রিত বুমরাহ – শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। পাওয়ারপ্লেতে সেই বিষাক্ত ইয়র্কার, ব্যাটারের স্টাম্প উপড়ে ফেলা উল্লাস কিংবা মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রানের চাকা চেপে ধরা। এই দৃশ্যগুলোই ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে চিরচেনা। কিন্তু ২০২৬ সালের আইপিএল যেন এক অন্য বুমরাহকে দেখছে। উইকেটের দেখা নেই, নেই সেই চেনা ‘ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট’ তকমা।
পরিসংখ্যান বলছে, বুমরাহ এখন তার আইপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। টানা পাঁচটি ম্যাচ পার হয়ে গেলেও তার ঝুলিতে জমা পড়েনি একটি উইকেটও। এটিই তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম উইকেটহীন যাত্রার রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ সালে তিনি টানা চারটি ম্যাচ উইকেটশূন্য ছিলেন, কিন্তু এবারের খরা যেন আরও গভীর।
আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে চার ওভারে দশ ইকোনমিতে বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন বুমরাহ। পরের ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডারস এর বিপক্ষে ৩৫ রান দিয়ে কোনো উইকেটের দেখা পাননি ভারতীয় এই পেসার। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ছয়ের নিচে ইকোনমিতে বল করলেও উইকেটের ঘর অপরিবর্তিতই থেকে যায়। শেষ দুই ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস কিংবা ব্যাঙ্গালুরুর সাথেও একবারও ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরানোর স্বাদ মেলেনি তার।

চলতি আসরে এখন পর্যন্ত বুমরাহ ৯০টি বল করে ১২৩ রান খরচ করেছেন। তার ইকোনমি রেট ৮.২০, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব একটা খারাপ বলা চলে না। কিন্তু যখন নামটা হয় ‘জাসপ্রিত বুমরাহ’, তখন প্রত্যাশার পারদ থাকে আকাশচুম্বী। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মনে সেই ত্রাস সৃষ্টি করতে পারছেন না তিনি, যা তাকে অনন্য করে তুলেছিল।
বুমরাহর এই উইকেটহীন থাকা নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড়, তখন ভিন্ন এক বিশ্লেষণ নিয়ে হাজির হয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর মতে, ‘উইকেট পাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ওয়াংখেড়ের মতো মাঠে নিখুঁত ইয়র্কার দিয়ে প্রতিপক্ষকে রানের জন্য হাঁপিয়ে তোলা। যখন একজন বোলার টানা ভালো ওভার করতে পারেন না, তখন তার উইকেট পাওয়ার ক্ষমতা অনেকাংশেই পার্টনার বোলারের ওপর নির্ভর করে।’
আইপিএলের দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে ১৪৯ ম্যাচে ১৮৩টি উইকেট শিকার করা এই বোলার যে হঠাত্ এভাবে খেই হারিয়ে ফেলবেন, তা হয়তো কট্টর সমালোচকও ভাবেননি। অনেকে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস করে বলছেন এ আসরে মুস্তাফিজুর রহমানের উইকেট সংখ্যা আর বুমরাহর উইকেট সংখ্যা সমান।












