নকআউটের চাপ কি সামলাতে পারবেন বুড়ো নয়্যার?

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোলকিপারদের একজন তিনি—ম্যানুয়েল নয়্যার। সুইপার-কিপার ধারণাটাকে যিনি একাই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, সেই নয়্যারকে ঘিরে এখন জার্মান ফুটবলে বড় প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি এখনও দলের ভরসা, নাকি দুর্বলতার প্রতীক?

ম্যানুয়েল নয়্যার—ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোলরক্ষকদের একজন। আধুনিক ফুটবলে “সুইপার-কিপার” ধারণাকে যিনি একাই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, সেই নয়্যার এখন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জটিল সময় পার করছেন। প্রশ্নটা তাই খুব সরল—তিনি কি এখনো জার্মানির ভরসা, নাকি বড় মঞ্চে দলের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল তার স্বর্ণযুগ। ব্রাজিলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে পেনাল্টি বক্সের বাইরে বেরিয়ে একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে তিনি দেখিয়েছিলেন নতুন যুগের গোলকিপিং কেমন হওয়া উচিত। সেই টুর্নামেন্টে জার্মানি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় এবং নয়্যার পান গোল্ডেন গ্লাভ।

কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে গল্প বদলাতে শুরু করে।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানি গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়। সেই আসরে নয়্যারের অতিরিক্ত আগ্রাসী পজিশন অনেক সময়ই দলের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও কোস্টারিকার বিপক্ষে একাধিক সিদ্ধান্তগত ভুল এবং সেট-পিস ডিফেন্সে দুর্বলতা জার্মানির আবারও গ্রুপ পর্ব বিদায়ের পেছনে বড় প্রশ্ন তোলে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলেও সমালোচনা থেমে থাকেনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বল হ্যান্ডলিং ও পজিশনিংয়ে কিছু ভুল তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে ছোট ভুলগুলোই এখন বেশি চোখে পড়ছে, যা তার আগের অপ্রতিরোধ্য ভাবমূর্তির সঙ্গে তীব্রভাবে সাংঘর্ষিক।

তবুও পুরো চিত্রটা একপাক্ষিক নয়। এই মৌসুমে বুন্দেসলিগায় তার সেভিং স্ট্যাটস এখনো শীর্ষ পর্যায়ে। ইনজুরির কারণে টের স্টেগেন না থাকায় কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান আবারও আস্থা রেখেছেন অভিজ্ঞ নয়্যারের ওপর। ৪০ বছর বয়সে তিনি খেলছেন নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ—জার্মান ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই যা করতে পেরেছেন।

তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ম্যাচে একটি মুহূর্ত আবারও বিতর্ক তৈরি করে। গনসালো প্লাটার কর্নার থেকে করা গোলের আগে জার্মান ডিফেন্স ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে পারেনি। নয়্যার সামনে এগিয়ে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন, আর সেই বিশৃঙ্খল মুহূর্তেই ইকুয়েডর গোল পেয়ে যায়। এই ঘটনাই আবারও প্রশ্ন তোলে—বড় মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভরযোগ্য?

এখন জার্মানির সামনে নকআউট পর্ব। প্রতিপক্ষ যত কঠিন হবে, চাপ তত বাড়বে। আর ঠিক সেই চাপেই আবারও সামনে আসবে ম্যানুয়েল নয়্যার বিতর্ক—তিনি কি শেষ বিশ্বকাপে জার্মানির দেয়াল হয়ে দাঁড়াবেন, নাকি সময়ের ভারে সেটাই হবে তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link