কে এই ক্যাম্পবেল থমসন?

একটামাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। বায়োডাটায় এর বেশি কিছু ছিল না ক্যাম্পবেল থমসনের। অথচ ডারউইনের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে যা করে দেখালেন, সেটাই হয়তো তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে।

একটা মাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। বায়োডাটায় এর বেশি কিছু ছিল না ক্যাম্পবেল থমসনের। অথচ ডারউইনের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে যা করে দেখালেন, সেটাই হয়তো তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে।

বয়স মাত্র ২২। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেফিল্ড শিল্ডে অভিষেক হয়েছিল তার। প্রথম ম্যাচেই সামনে পেয়েছিলেন উসমান খাজার মতো ব্যাটসম্যানকে। বল হাতে নিজের সামর্থ্যের আভাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই চোট থামিয়ে দেয় তার পথচলা।

দীর্ঘ বিরতির পর ফিরেই পেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের মঞ্চ। আর সেই সুযোগটা কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, ডারউইনে সেটাই দেখালেন থমসন।

ডারউইনের উইকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্য অনেক মাঠের মতো ভয়ংকর বাউন্সি ছিল না। কিন্তু থমসনের অস্ত্রও তো বাউন্স নয়। হালকা সুইং, স্কিড আর স্টাম্প বরাবর নিখুঁত লাইন—এই তিন অস্ত্রেই বাংলাদেশের ব্যাটিংকে রীতিমতো অসহায় করে তুললেন তরুণ এই পেসার।

আগের দিন দুই উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ১০ রান খরচ করে। এরপর শেষ দিনের সকালে যা হলো, সেটি যেন ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ওপর একক আক্রমণ। একে একে ফিরিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের। শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে ৮ উইকেট—থমসনের বোলিং ফিগারটাই হয়ে উঠল ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প।

আর বাংলাদেশ? মাত্র ৫৪ রানে অলআউট। ইনিংস ও ৩৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হার।

থমসন নিজেই বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করার অভিজ্ঞতা তাকে আসল মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করছে। ডারউইনে সেই কথারই যেন বাস্তব প্রমাণ মিলল।

এক ম্যাচের নায়ক থেকে হয়তো এখনো বড় কোনো পরিচয় তৈরি হয়নি ক্যাম্পবেল থমসনের। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য তার নামটা মনে রাখার মতোই।

কারণ সামনে যখন অপেক্ষা করছেন মিচেল স্টার্ক,হ্যাজেলউড,কামিন্স তখন প্রশ্নটা থেকেই যায়—থমসনের স্টাম্প-আক্রমণ, স্কিড আর সামান্য সুইং যদি এতটাই কঠিন হয়ে থাকে, তাহলে আসল পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা হলো বাংলাদেশের?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link