ভিনির পাশে মরিনহোর আগুন

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেই আগুন ঝরালেন হোসে মরিনহো। ১৩ বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে প্রত্যাবর্তনটা জয় দিয়ে রাঙালেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’। এস্পানিওলের মাঠে ২-১ গোলের কঠিন জয় পেল রিয়াল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এলো ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ঘিরে উত্তাপ—আর সেখানে ব্রাজিলিয়ান তারকার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন মরিনহো।

রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেই আগুন ঝরালেন হোসে মরিনহো। ১৩ বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে প্রত্যাবর্তনটা জয় দিয়ে রাঙালেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’। এস্পানিওলের মাঠে ২-১ গোলের কঠিন জয় পেল রিয়াল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এলো ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ঘিরে উত্তাপ—আর সেখানে ব্রাজিলিয়ান তারকার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন মরিনহো।

ম্যাচজুড়েই ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে ছিল উত্তেজনা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, গ্যালারি থেকেও শুনেছেন নানা কটূক্তি। আলেক্স কালাত্রাভার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে হলুদ কার্ডও দেখেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ভিনির রাতটা ছিল বেশ অস্বস্তির।

কিন্তু ম্যাচ শেষে আর চুপ থাকেননি মরিনহো। সরাসরি জানালেন, ভিনিসিয়াসকে প্রতিপক্ষ ও দর্শকদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘বুলিং’-এর শিকার হতে হচ্ছে।

মরিনহো বলেন, ‘ভিনি কোনো সাধু নয়। কিন্তু ওর সঙ্গে যা করা হয়, সেটা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রথম মিনিট থেকেই শুরু হয়। এটা যেন একটা পরিকল্পিত ছক—একজন ফাউল করবে, তারপর আরেকজন। কারও হলুদ কার্ড হয়ে গেলে অন্যজন একই কাজ করবে।’

মরিনহোর চোখে, ভিনিসিয়াসকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও ভাঙার চেষ্টা চলছে। একের পর এক ফাউল, উসকানি আর গ্যালারির চাপ—সব মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ম্যাচের বাইরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা যেন নিয়মিত কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা ওর জন্য হতাশার। ওকে দারুণ মানসিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। আমি ভিনিকে বলেছি, গোল করলেও উদযাপনের সময় সাবধান থাকতে—যাতে মাঠে থাকতে পারে। ব্যাপারটা কঠিন।’

এরপরই মরিনহোর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য, ‘আমরা এমন এক সামাজিক সময়ে আছি, যেখানে বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়। কিন্তু ভিনির ক্ষেত্রে আমরা এখনো বুলিংয়ের যুগেই আছি—প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও, দর্শকদের কাছ থেকেও।’

মরিনহোর প্রত্যাবর্তনের রাতে অবশ্য শুধু ভিনিসিয়াসই আলোচনায় ছিলেন না। নজর কেড়েছেন জুড বেলিংহামও।

২০২৬ বিশ্বকাপের ধকল কাটিয়ে ফিরেই একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। তাঁকে শুরুতে খেলাবেন, নাকি বেঞ্চ থেকে নামাবেন—এ নিয়ে মরিনহোরও ছিল সংশয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা যে ভুল হয়নি, সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন বেলিংহাম। রিয়ালের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও বেলিংহাম—এই ত্রয়ীকে নিয়ে মরিনহোর চোখে বড় সম্ভাবনা।

তবে বেলিংহামকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য আরও পরিষ্কার। মরিনহোর মতে, ইংলিশ তারকার আসল জায়গা প্রতিপক্ষের গোলমুখের কাছাকাছি। তিনি বলেন, ‘এটাই আমার কাছে জুডের পজিশন। ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে তার সংযোগ, গোল করার সুযোগ, সবকিছু এখানেই বেশি। তাকে গোলের কাছাকাছি খেলাতে হবে। ছয় বা আট নম্বরে খেলালে আমরা তার গোলের কাছাকাছি থাকার ক্ষমতাটাই হারাই। আমি এই জুডকেই পছন্দ করি।’

১৩ বছর পর প্রত্যাবর্তন। প্রথম ম্যাচেই জয়। আর জয় ছাপিয়ে ভিনিসিয়াসকে নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা। মরিনহো ফিরেছেন, আর তাঁর সঙ্গে ফিরেছে সেই পুরোনো আগুনও। রিয়ালের ডাগআউটে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’-এর দ্বিতীয় অধ্যায় যে একেবারেই শান্ত হবে না, প্রথম রাতেই তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তিনি।

Share via
Copy link