এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে চরম অব্যবস্থাপনা

শহরের কোলাহল থেকে দূরে, নাগোয়া বন্দরে ভাসছে বিশাল প্রমোদতরী কোস্টা সেরেনা, যার ৫৭১টি কেবিনে ঠাঁই হবে হাজার হাজার অ্যাথলেটের। কিন্তু ক্রিকেটের ভাগ্যে জোটেনি সেই বিলাস। তাঁদের ঠিকানা নাগোয়া শহরের হোটেল, ভেন্যু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে — যেখানে রোজ পৌঁছাতে হবে বুলেট ট্রেনে চেপে।

শহরের কোলাহল থেকে দূরে, নাগোয়া বন্দরে ভাসছে বিশাল প্রমোদতরী কোস্টা সেরেনা, যার ৫৭১টি কেবিনে ঠাঁই হবে হাজার হাজার অ্যাথলেটের। কিন্তু ক্রিকেটের ভাগ্যে জোটেনি সেই বিলাস। তাঁদের ঠিকানা নাগোয়া শহরের হোটেল, ভেন্যু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে — যেখানে রোজ পৌঁছাতে হবে বুলেট ট্রেনে চেপে।

ব্যাংককে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকে সবচেয়ে আগে আপত্তি তোলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এরপর একে একে গলা মেলায় ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান — মহাদেশের পাঁচ টেস্ট শক্তি যেন এক সুরে বলে ওঠে, এভাবে চলে না। সবচেয়ে বড় অভিযোগ ঘরের আয়তন নিয়ে। বরাদ্দ করা ঘরগুলো এতটাই সংকীর্ণ যে দুজন খেলোয়াড় লাগেজ আর ভারী কিটব্যাগ রাখার পর হাঁটাচলার জায়গাও পান না। এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কোনো এক খেলোয়াড় কিটব্যাগ খুললে ঘরে দাঁড়ানোরও ঠাঁই থাকে না বলে অভিযোগ।

ভেন্যুর কথা বললে হতাশা আরও গাঢ় হয়। নিসশিন সিটির কোরোগি স্পোর্টস পার্ক কয়েক মাস আগেও ছিল নিছক এক বেসবল মাঠ, মার্চে তড়িঘড়ি রূপ পেয়েছে ক্রিকেটের উপযোগী করে। স্থায়ী ড্রেসিংরুম নেই, তার বদলে ক্যানভাসের তাঁবু। সেই তাঁবু থেকে শৌচাগারের দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার।

পিচও সদ্য বসানো, হাইব্রিড ধাঁচের, মে মাসের একটি কোয়ালিফায়ার ছাড়া বড় কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি এখনও। শোনা যাচ্ছে, এই উইকেট নাকি আবার বানিয়েছেন খোদ গামিনি ডি সিলভা।

পরিস্থিতি সামলাতে কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাপানে গিয়ে ভেন্যু ও আবাসন সরেজমিনে দেখবে তাদের প্রতিনিধিদল। ভারতীয় বোর্ড আলোচনা করেছে দেশের অলিম্পিক সংস্থার সঙ্গেও, তবে আয়োজক কমিটির তরফে এখনও মেলেনি স্পষ্ট জবাব। উল্টো বাড়তি অংশগ্রহণকারীদের চাপে হিমশিম আয়োজকরা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে সবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার মতো জনবল কিংবা বাজেট, কোনোটাই তাঁদের হাতে নেই।

মেয়েদের লড়াই শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর, ছেলেদের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে প্রথম সোনা জেতার স্মৃতি এখনও অমলিন বাংলাদেশের কাছে। বুলেট ট্রেনে রোজকার ক্লান্তিকর যাতায়াত আর তাঁবুর নিচে প্রস্তুতি নিয়েই কি তবে সেই সোনালি স্মৃতি ফেরানোর লড়াইয়ে নামতে হবে এবার?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link