এক আজমল এবং থমকে যাওয়া ইতিহাস

ক্রিকেট মাঠে স্পিন বোলিং যদি হয় এক জটিল ভাস্কর্য, তবে সাঈদ আজমল ছিলেন সেই শিল্পের নিপুণ ভাস্কর। হাতের আঙুল, কবজির মোচড় আর রহস্যময় 'দোসরা'র সংমিশ্রণে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছিলেন অবিস্মরণীয় এক ঘূর্ণির জাদু।

ক্রিকেট মাঠে স্পিন বোলিং যদি হয় এক জটিল ভাস্কর্য, তবে সাঈদ আজমল ছিলেন সেই শিল্পের নিপুণ ভাস্কর। হাতের আঙুল, কবজির মোচড় আর রহস্যময় ‘দোসরা’র সংমিশ্রণে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছিলেন অবিস্মরণীয় এক ঘূর্ণির জাদু। দেরিতে আলোয় এসে চোখের পলকে ক্রিকেট বিশ্ব শাসন করা এই পাকিস্তানি স্পিনারের ক্যারিয়ার যেন এক ট্র্যাজিক রূপকথা।

​১৯৭৭ সালে ফয়সালাবাদে জন্ম নেওয়া আজমলের জাতীয় দলে অভিষেক হতে হতে লেগে যায় ৩১ বছর। কিন্তু যেখানে অনেকের ক্যারিয়ার শেষের পথে থাকে, আজমলের গল্পটা ঠিক সেখান থেকেই শুরু। তাঁর মূল হাতিয়ার ছিল ‘দোসরা’। যা অফ-স্পিনারের হাত থেকে বেরিয়ে তিরের মতো বাইরের দিকে চলে যেত। আর বল যখন ব্যাটারকে বোকা বানিয়ে স্টাম্প উড়িয়ে দিত, আজমলের মুখে ফুটে উঠত এক শিশুতোষ অমলিন হাসি।

​২০১২ সালের জানুয়ারি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাঠফাটা রোদে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ। বিশ্ব ক্রিকেটের তৎকালীন এক নম্বর দল ইংল্যান্ড তখন জয়ের স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু দুবাই এবং আবুধাবির স্পিনবান্ধব উইকেটে সাঈদ আজমল যা ঘটালেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

​ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের কোনো উত্তর ছিল না আজমলের অফ-ব্রেক আর দোসরার সামনে। কেভিন পিটারসেন, ইয়ান বেলদের মতো ব্যাটসম্যানরা উইকেটে এসে ঠিক কতক্ষণ টিকবেন – সেই হিসাব মেলাতে ব্যস্ত ছিলেন।

সিরিজের প্রথম টেস্টেই ২৪ রান দিয়ে সাত উইকেটসহ মোট দশ উইকেট নেন আজমল। তিন টেস্টের সিরিজে ২৪টি উইকেট শিকার করে তৎকালীন বিশ্বসেরা ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার মূল নায়ক ছিলেন এই জাদুকর। ইংলিশ মিডিয়া তখন তাঁকে উপাধি দিয়েছিল, ‘অদৃশ্য চাবুকের মালিক’।

তবে আজমলের ক্যারিয়ারে যেমন ছিল সাফল্যের চূড়া, তেমনই ছিল ট্র্যাজেডির ছায়া। দীর্ঘদিন বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য দেখানোর পর ২০১৪ সালে আইসিসি তাঁর বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে। পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, বল করার সময় তাঁর কনুই নির্ধারিত ১৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি বাঁক নেয়। বোলিং অ্যাকশন শুধরে পরবর্তীতে মাঠে ফিরলেও, সেই পুরানো ধার আর জাদু হারিয়ে যায়।

​৩৫ টেস্টে ১৭৮ উইকেট এবং ১১৩ ওয়ানডেতে ১৮৪ উইকেটের পরিসংখ্যান দিয়ে আজমলের প্রভাব বোঝানো সম্ভব নয়। তিনি ছিলেন এমন এক ক্রিকেটার, যিনি স্পিনকে কৌশলের গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পে রূপান্তর করেছিলেন। প্রতিকূলতা জয় করে শীর্ষে ওঠা এবং নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হয়ে বিদায় নেওয়া, সব মিলিয়ে সাঈদ আজমল ক্রিকেট ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় নাম।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link