লিগ ওয়ানের পারফরম্যান্স বা ঘরোয়া মৌসুমের ছন্দ যাই হোক না কেন, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এলেই যেন সম্পূর্ণ এক অপ্রতিরোধ্য রূপে অবতীর্ণ হয় প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। ব্যাক-টু-ব্যাক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা এবারও তার প্রমাণ রাখল। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এলো লুইস এনরিকের দল।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল ফরাসি জায়ান্টদের নিখুঁত ট্যাকটিকাল স্ট্র্যাটেজির বাস্তবায়ন। পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে সিটির বিল্ড-আপ গেম পুরোপুরি ধ্বংস করতে অত্যন্ত চতুর কৌশল বেছে নেন। ভিতিনহা, জাইরে-এমেরি এবং ফাবিয়ান রুইজের গড়া মিডফিল্ড ত্রয়ী সিটির পাসিং লেন অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সিটির ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের ফাঁকা জায়গাগুলোতে পসরা সাজান দেজিরে দুয়ে এবং উসমান ডেম্বেলে। মাত্র ১২ থেকে ৩২ মিনিটের মধ্যে সিটির রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে পরপর তিনটি গোল আদায় করে নেয় পিএসজি। দেজিরে দুয়ে ও উসমান ডেম্বেলে ফরাসিদের এগিয়ে নেওয়ার পর, মিডফিল্ড থেকে উঠে এসে দুর্দান্ত এক গোল করেন ভিতিহা। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার সিটি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে এঞ্জো মারেস্কার দল কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে নতুন গতি নিয়ে আসে। লং বল এবং উইং প্লেতে ধার বাড়িয়ে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। ৫৩তম মিনিটে সিটির আক্রমণ থেকে প্রথম গোলটি করেন আর্লিং হাল্যান্ড।
এরপর ৭৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। এই ম্যাচে জোড়া গোল করার সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মেসিকে ছাড়িয়ে ৬০ গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েন হাল্যান্ড।
সিটির এই কামব্যাক প্রচেষ্টা পুরোপুরি রুখে দিতে ৬৩ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন মাঘনেস আকলিউশ। ঘরোয়া লিগে নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও ইউরোপের এই মেগা মঞ্চে নিজেদের আসল হাড় হিম করা সামর্থ্য ও চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা ফুটিয়ে তুলে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে এলো পিএসজি।












