গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

দীর্ঘদিনের নাম্বার নাইন সংকট, আসিয়ান কাপে গোলের জন্য হাহাকার! বাংলাদেশের আক্রমণভাগের সেই পুরোনো ক্ষতে প্রলেপ হয়ে আসছেন রোনান সুলিভান। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ড কি পারবেন লাল-সবুজের গোল-আকালের অবসান ঘটাতে?

আসিয়ান কাপে প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুবার বল পাঠানোর বিপরীতে ১৩ গোল হজম করে বাংলাদেশ! এই পরিসংখ্যান শুধু রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতাই নয়, আক্রমণ বিনির্মাণ এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দীর্ঘস্থায়ী সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। এই ব্যর্থতার আলোচনায় বারবার উঠে আসে একজন প্রকৃত নাম্বার নাইন-এর অভাব। আসিয়ান কাপে শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন কিংবা শাহরিয়ার ইমনকে দেখা গেছে ফলস নাম্বার নাইন রোলে! কেউই খেলতে পারেনি তাঁদের সহজাত পজিশনে। আর তাতেই কি না পারফর্মেন্স হয়েছে সাদামাটা!

একজন প্রকৃত নাম্বার নাইনকে প্রতিপক্ষের সেন্টারব্যাকদের ব্যস্ত রাখা, বক্সের ভেতরে সঠিক অবস্থান নেওয়া, ক্রস ও থ্রু পাস থেকে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো এবং প্রয়োজনে বল ধরে সতীর্থদের আক্রমণে যুক্ত করার সক্ষমতা দেখাতে হয়। অন্য ভূমিকায় স্বচ্ছন্দ ফুটবলারকে সেখানে খেলালে আক্রমণ তৈরি হলেও বক্সে কার্যকর ফিনিশারের অভাব থেকে যেতে পারে। বাংলাদেশ দলে বছরখানেক ধরে এমনটিই হয়ে আসছে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও জয়সূচক করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাম্বার নাইন হিসেবে রোনান সুলিভান কি হয়ে উঠবেন বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সমাধান? ফিফা আসিয়ান কাপের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ কতটা কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের কার্যকারিতা এবং লাল-সবুজের আক্রমণভাগের ভবিষ্যৎ।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link