ভারতের বোলিং আক্রমণ কি অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো অন্তত সেই প্রশ্নই তুলছে। একের পর এক ২০০ প্লাস স্কোর, পাওয়ার হিটারদের দাপট আর ডেথ ওভারে রান আটকাতে না পারা, সব মিলিয়ে ভারতের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ব্যাটিংবান্ধব উইকেট ও শিশির বোলারদের কাজ কঠিন করে তোলে, এটা সত্য। তবে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, বোলারদের হাতে বিকল্প পরিকল্পনা থাকা জরুরি। জসপ্রিত বুমরাহ দলে না থাকায় ভারত যে অভিজ্ঞতার অভাব অনুভব করছে, তা স্পষ্ট। প্রিন্স যাদবের ইয়র্কার কিংবা মায়াঙ্ক যাদবের গতি আশার জায়গা তৈরি করলেও, ডেথ ওভারে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এখনো তাঁদের জন্য বড় পরীক্ষা।

ভারতের মূল সমস্যা হলো, আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের পাশাপাশি কখন রক্ষণাত্মক হতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। সব সময় উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করলেই যে রান আটকানো যাবে, এমন নয়। কখনো ওয়াইড ইয়র্কার, কখনো স্লোয়ার বাউন্সার, আবার কখনো গতির পরিবর্তনে ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করা যায়। অর্শদীপ সিং এসব কৌশল প্রয়োগে দক্ষ। তাই প্রশ্নটা বোলারদের সামর্থ্য নিয়ে যতটা, তার চেয়ে বেশি সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে।
বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এই দুর্বলতা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ছোট বাউন্ডারি ও ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে সামান্য ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়। সেখানে শুধু আগ্রাসন নয়, দরকার নিখুঁত লাইন ও লেংথ, গতির বৈচিত্র্য এবং পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করার ক্ষমতা। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরও সমস্যাকে আড়াল না করে সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ বড় দল হওয়ার পরিচয় শুধু শিরোপায় নয়, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাতেও।










