ভুল কিছু বন্ধু আর অপ্রয়োজনীয় কিছু সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে পৃথ্বী শ-এর জীবন। কথায় আছে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। তবে লোহা না ভাসলেও খারাপ সঙ্গে ভেসে গেছে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারের আলো ঝলমলে এক ক্যারিয়ার।
পৃথ্বী শ— একসময় যাঁকে বলা হতো ভারতের ভবিষ্যৎ টেন্ডুলকার, আজ তিনি ক্রিকেট মাঠের কোথাও নেই, কোনো শিরোনামে তাকে নিয়ে একটা শব্দও লেখা হয় না৷অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করা বিস্ময়, সেই ছেলেটাই এখন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চেও দল পায় না। তাই তো প্রশ্ন ওঠে সম্ভাবনার চূড়ায় থাকা একজন ক্রিকেটার হয়ে কেন, হারিয়ে গেলেন তিনি?
উত্তরটা নিজেই দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন — ‘আমি জানি আমার সঙ্গে কী হয়েছে। আমি অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি জীবনে। ক্রিকেটকে কম সময় দিতে শুরু করেছিলাম। আগে প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতাম, কখনো ক্লান্ত হতাম না। আধা দিন মাঠে থাকতাম। এখন স্বীকার করছি, তখন একটা বিচ্যুতি হয়েছিল।’

নিজের অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া, ভুল বন্ধু বানানো— এসবই ধীরে ধীরে তাকে লক্ষ্যপথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।তিনি বলেন, ‘তখন আমি অনেক ওপরে ছিলাম, সেই জায়গা থেকেই কিছু ভুল বন্ধু তৈরি হয়। তারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় টেনে নিয়ে যায়। আমি ব্যাটিং প্র্যাকটিস করতাম দিনে ৮ ঘণ্টা, এখন তা ৪ ঘণ্টায় নেমে এসেছে।’
তবে দু:সময়ে কাউকে পাশে না পেলেও নিয়মিত খোঁজ নিতেন ঋষাভ পান্ত এবং শচীন টেন্ডুলকার। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বলেন, ‘ঋষাভ পান্ত ছাড়া আর কেউ ছিল না। শচীন স্যার ছিলেন, তিনি জানেন স্ট্রাগল কাকে বলে। আমি ওনার চোখের সামনেই বড় হয়েছি, অর্জুন টেন্ডুলকারের সঙ্গেই ছিলাম। ওনার বাড়িতেও গিয়েছি।’
ডিসিপ্লিন ও ফিটনেস ইস্যুতে বাদ পড়ার পর এবার মুম্বাই ক্রিকেট সংস্থার (এমসিএ) কাছ থেকে এনওসি চেয়েছেন পৃথ্বী শ। শেষবার মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছেন সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির ফাইনালে। এবার রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্রে যোগ দিতে প্রস্তুত তিনি।

একসময় দিল্লী ক্যাপিটালসের হয়ে ৭.৫ কোটি টাকায় আইপিএলে খেলেছিলেন পৃথ্বী কিন্তু পরপর দুই মৌসুমে ব্যর্থতায় দল তাকে ছেড়ে দেয়। ২০২৫ সালের আইপিএল নিলামে কেউ তাকে কিনে নেয়নি।
তবুও আশা ছাড়েননি পৃথ্বী। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই জীবনের এমন কঠিন সময়ে দাঁড়িয়েও ফিরে আসার গল্প লিখতে চান, ফিরে আসতে চান। একটা দীর্ঘ পথ তাকে পাড়ি দিতে হবে, এই পথে খেয় হারানোর সুযোগ নেই। হয়তো তিনি পারবেন, অথবা একটা আফসোসের সুর তুলে আবারও হারিয়ে যাবেন!











