বিসিবিতে অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বাংলা প্রবাদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ক্রিকেট বিশ্বের ধনী ও সফল বোর্ডদের চাইতেও বিসিবিতে নীতি-নির্ধারকের সংখ্যা বেশি।

অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বাংলা প্রবাদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ক্রিকেট বিশ্বের ধনী ও সফল বোর্ডদের চাইতেও বিসিবিতে নীতি-নির্ধারকের সংখ্যা বেশি। তবুও উন্নতির যেন বালাই নেই। ব্যাংকে থাকা অর্থকড়ি মুনাফা জুড়ে স্রেফ বৃদ্ধি হয়- কাজে আসে না, উন্নয়ন ঘটে না।

সদ্যই শেষ হল, বিসিবি নির্বাচন। ২৩ জন বোর্ড পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আরও দুই জন যুক্ত হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে। মোট মিলিয়ে ২৫ জন বোর্ড পরিচালক, সামাল দেবেন দেশের ক্রিকেট। এটাই তো অনুমিত। কিন্তু তাতেও নাভিশ্বাস উঠে যায়। ঘাটতি থেকে যায় সর্বত্র। মাঠের পারফরমেন্স- সেটা তো রীতিমত ঈদের চাঁদ।

ক্রিকেট বিশ্বের তিন মোড়ল, বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ), ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এই তিন বোর্ডের সম্মিলিত পরিচালক সংখ্যা এক বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের চাইতে কিঞ্চিৎ বেশি। বিসিসিআই পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মাত্র আটজন। সিএ-তে বোর্ড পরিচালক দশ জন।

অন্যদিকে ইসিবিতে রয়েছেন ১১ জন। যাদের মধ্যে দুইজন আবার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চুক্তিভুক্ত। একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আরেকজন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা। অতএব এই তিন বোর্ডের মোট পরিচালক সংখ্যা ২৭। বিসিবির চাইতে মাত্র দুইজন বেশি। এত লোক দিয়ে আসলে কাজের কাজটা কি হচ্ছে?

শুধু যে বিশ্বের শীর্ষ তিন বোর্ডেই যে জনবল বাংলাদেশের তুলনায় কম, তা কিন্তু নয়। প্রায় অধিকাংশ ক্রিকেট বোর্ডেই পরিচালক সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় অর্ধেক। কোন কোন ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ। এই যেমন প্রায়শই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) রদবদল হয়। রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সাথে সাথে- তাদের ক্রিকেট বোর্ডেও আসে পরিবর্তন।

সেই পিসিবিতেও পরিচালক সংখ্যা ১১ জন। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে পরিচালক সংখ্যা মাত্র সাতজন। এই সংখ্যার বিস্তর ফারাকে কাজের ফলাফলেরও তো ফারাক থাকার কথা নিশ্চয়ই। কিন্তু তেমনটি কি আর থাকছে? দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান দিনকে দিন নিম্নগামী হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তো জৌলুস হারিয়েছেই, সাথে যুক্ত হয়েছে অস্বচ্ছ  দুর্নীতির নানা অভিযোগ।

জাতীয় দল? সেটাও সময়ের সাথে সাথে বরং দূর্বল থেকে দূর্বল দলে পরিণত হচ্ছে। কারণ- পাইপলাইন মজবুত করবার মত শক্তি পাচ্ছে না ২৫ জনের পরিচালনা পর্ষদ। তবে কিসের মোহে তারা নির্বাচনের জন্যে উঠে-পড়ে লাগেন? সেটাও পরিষ্কার না। বিসিবি বোর্ড কর্তাদের স্বীকৃত কোন সম্মানী নেই। তারা কি কি সুযোগ সুবিধা পাবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। তবুও বোর্ড পরিচালক হওয়ার তীব্র বাসনায়, নানামুখী রাজনীতি থেকেও পিছনা হননা।

সবার মুখে একই বুলি, ক্রিকেটের উন্নয়ন। কিন্তু প্রশ্ন ঘুরে ফিরে সেই একটাই- উন্নয়নটা কোথায়? বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড। অন্য বোর্ডের তুলনায় লোকবল বেশি। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছাড়া বিশেষ কোন উন্নতি অবশ্য চোখে পড়েনি নিকট অতীতে, অদূর ভবিষ্যতেও যে পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যাবে- সে বিশ্বাসটুকুও তো নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ঘিরে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link