একটা বিরল ঘটনা ঘটে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে। ১৪৮ বছরেও যে রেকর্ডের পৃষ্ঠা থেকেছে একেবারে ধুধু মরুপ্রান্তর হয়ে, সেই পৃষ্ঠায় উঠে গেছে স্কটল্যান্ড ও কানাডার নাম। ইনিংসের প্রথম দুই বলেই দুই ওপেনার আউট। এমন ঘটনা কোন ফরম্যাটে এর আগে কখনোই ঘটেনি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায়।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের একটা ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা ও স্কটল্যান্ড। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ড। বল তুলে দেওয়া হয় ব্র্যাড কুরির হাতে। প্রথম বলেই আঘাত হানেন তিনি। কানাডার নাদিম আলির ব্যাটের আলতো খোঁচায় বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের হাতে।
প্রথম বলে উইকেট প্রাপ্তির বিষয়টি মোটেও নতুন কিছু নয়। হরহামেশাই ঘটে বিশ্ব ক্রিকেটের নানা প্রান্তে। কিন্তু ব্র্যাড কুরির ছোড়ার দ্বিতীয় বলটি বরং ইতিহাস গড়েছে। অপরপ্রান্তে ছিলেন কানাডার আরেক ওপেনার যুবরাজ সামরা। কুরির ছোড়া দ্বিতীয় বলটায় স্ট্রেইট ড্রাইভে লাগে স্কটিশ বোলারের স্পর্শ। সেই মুহূর্তে ক্রিজের বাইরে ছিলেন যুবরাজ।

কুরির হাতে লেগে বল আঘাত করে স্ট্যাম্পে। তাতে পরপর দুই বলে কানাডার দুই ওপেনার ফেরেন প্যাভিলিয়নে। এমন বিরল ঘটনা এর আগে কখনোই মঞ্চায়িত হয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে। এমন বিরল রেকর্ডের বিপরীত পার্শ্বে থেকেও শেষ অবধি ১৮৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল কানাডা। শ্রেয়াস মোভার ৬০ রানের কল্যাণে।
পঞ্চাশ ওভারের সেই ম্যাচে স্কটল্যান্ডের অবশ্য ম্যাচ জিততে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়নি। জর্জ মুন্সি ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেছেন। মাঝে তার সাথে জুটি বেঁধে রান তোলেন স্কটিশ অধিনায়ক রিচি বেরিংটন, আউট হন ৬৪ রানে। তাতে করে সাত উইকেট বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় স্কটল্যান্ড।
এই ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে, বিরল রেকর্ডটি এই ম্যাচকে জায়গা করে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। এই রেকর্ড অক্ষয়। এই রেকর্ডের নিচে স্রেফ নতুন ঘটনা যুক্ত হওয়া সম্ভব। ব্র্যাড কুরিও এক প্রকার অমরত্ব পেয়ে গেলেন এই রেকর্ডের কল্যাণে।












