অভিষেক ফিরলেন, খুলনাকে জেতালেন!

ফেরার জন্য একটা পথ দরকার ছিল অভিষেক দাস অরণ্যের। সেটাও পেয়ে গেলেন এনসিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। নায়কোচিত ইনিংস খেলে খুলনা বিভাগকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দিলে, নিজে হলেন জয়ের নায়ক।

ফেরার জন্য একটা পথ দরকার ছিল অভিষেক দাস অরণ্যের। সেটাও পেয়ে গেলেন এনসিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। নায়কোচিত ইনিংস খেলে খুলনা বিভাগকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দিলে, নিজে হলেন জয়ের নায়ক।

খুলনাকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য বেধে দিয়েছিল চট্টগ্রাম বিভাগ। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কুপোকাত খুলনা, রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান ওপেনার ইমরানুজ্জামান। আর এরপরই বৃষ্টির বাধা।

লম্বা বিরতি শেষে যখন আবার ম্যাচ মাঠে গড়ালও খুলনাকে বেধে দেওয়া হলো নয় ওভারে ৭৮ রানের লক্ষ্য। তবে ব্যাটিং অর্ডার যেন মুহূর্তেই ধসে পড়ল। সৌম্য-আফিফরা কেবল এলেন আর গেলেন। ৩০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে জয়ের সম্ভবনা বৃষ্টি জলের মতো ভাসিয়ে দিয়েছে তখন খুলনা।

তবে সেখানেই ত্রাতা হয়ে এলেন অভিষেক। হারার আগে হারতে নেই মন্ত্রটা বুকে ধারণ করে প্রতিআক্রমণ চালালেন চট্টগ্রামের বোলারদের উপর। সঙ্গী হিসেবে পেলেন নাহিদুল ইসলামকে।

ক্রিকেটের সাথে অনেকটা মান-অভিমানের গল্প যেন অভিষেক দাস অরণ্যের, আর ইনজুরি সেই সম্পর্কের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল দেয়াল হয়ে। সেই দেয়ালকে অভিষেক ভাঙলেন ব্যাট হাতে। বল হাতে দুই ওভার ঘুরিয়ে উইকেটের দেখা না পেলেও ব্যাট হাতে পুষিয়ে দিলেন সবটা। ১১ বল খেলে তিন চার আর দুই ছক্কায় করলেন ২৭ রান।

নাহিদকে নিয়ে চার ওভারে ৩৮ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ফেললেন তিন বল হাতে রেখেই। অর্থাৎ চার উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনালে পা রাখল খুলনা। নাহিদের ব্যাট থেকেও এসেছে নয় বলে ২১ রানের ঝড় ইনিংস। দুজনের ওই জুটিটাই ডুবিয়েছে চট্টগ্রামকে।

এদিন অবশ্য আগে ব্যাট করে চট্টগ্রামের শুরুটা ছিল একেবারেই নড়বড়ে। ইরফান শুক্কুর আর ইয়াসির রাব্বির ব্যাট বাকীদের ব্যর্থতার উপর প্রলেপ দিয়েছিলেন। রাব্বির ৪৫ আর শুক্কুরের ৩৯ রানে ভর করে চট্টগ্রাম তুলেছিল ছয় উইকেট হারিয়ে ১৪৮।

তবে শেষটাতে অভিষেকের হার না মানা মানসিকতার কাছে হারতে হয়েছে রাব্বিদের। নিজের ফেরার গল্প লিখলেন, দলকে ফাইনালে নিলেন। এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link