বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখছেন অভিষেক

ক্রিকেট মাঠে যখন ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন, গ্যালারিতে তখন হাজারো মানুষের গগনবিদারী চিৎকার শোনা যায়। কিন্তু হাজারো মানুষের ভীড়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের একজন দর্শকের চিৎকারটা অনেকটা বেশি আবেগতাড়িত হবে বটে। তিনি রাজকুমার শর্মা - ভারতের বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিধ্বংসী ওপেনার অভিষেকের বাবা।

ক্রিকেট মাঠে যখন ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন, গ্যালারিতে তখন হাজারো মানুষের গগনবিদারী চিৎকার শোনা যায়। কিন্তু হাজারো মানুষের ভীড়ে আজ কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের একজন দর্শকের চিৎকারটা অনেকটা বেশি আবেগতাড়িত হবে বটে। তিনি রাজকুমার শর্মা – ভারতের বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিধ্বংসী ওপেনার অভিষেকের বাবা।

গল্পটা ২০১৮ সালের। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের আগে এক কিশোর বাবার কাছে আবদার করেছিল, ‘পাসপোর্ট বানাও, নিউজিল্যান্ডে আমার খেলা দেখতে চলো।’

বাবা অবশ্য সেদিন স্পষ্ট ভাষায় মানা করে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, তিনি বিদেশে যাবেন কেবল তখনই, যখন ছেলে সিনিয়র পর্যায়ে ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ বা টেস্ট খেলবে। সেই প্রত্যাখ্যান কিশোর অভিষেককে কষ্ট দিলেও, সেদিনই জন্ম নেয় এক জেদ।  একদিন বিশ্বকাপে ভারতের জার্সি গায়ে খেলতে নেমে, বাবাকে গ্যালারিতে বসিয়ে দেখাবেন তিনি।

সময় গড়িয়েছে আট বছর। আজ কলম্বোয় সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণতা পাবার পালা। বাবা রাজকুমার শর্মা, মা মঞ্জু শর্মা, বোন কোমল শর্মা গ্যালারিতে বসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাথে ঘরের ছেলের ম্যাচ দেখার প্রহর গুনছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি রাজকুমার শর্মা। তিনি জানান, আইপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখলেও গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা – সেটি তাঁর জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

কলম্বোর ফ্লাডলাইটে আজ যখন অভিষেক ব্যাট হাতে ক্রিজে নামবেন, তখন গ্যালারিতে বসা বাবার চোখে ভেসে উঠবে ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপলগ্নে ছেলের সেই অভিমানী মুখটা। এই লড়াইটি কেবল ক্রিকেটের নয়, এটি ছিল পিতাপুত্রের প্রতিজ্ঞা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link