আগ্রাসনের অভিনব ধারাবাহিকতা

তিনি এখন পরিণত আর ধারাবাহিক ওপেনার। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে, টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেরই সেরা ওপেনার হওয়ার সক্ষমতা রাখেন তিনি।

অভিষেক শর্মা—ভারতের টি-টোয়েন্টি যুগান্তরের দরজা। সেই দরজা দিয়ে ভবিষ্যতের নতুন আলো ঢুকছে। রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তির বিদায়ের পর ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের পথচলা শুরু হলেও, তাঁর ব্যাটিংয়ের নির্ভীকতা যেন আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল—হিসেব করে খেলা তাঁর কাজ নয়।

ঠিক আইপিএলের সেই আগ্রাসী চেহারাটাই তিনি ধরে এনেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই অভিষেক প্রথম বল থেকেই বড় শট খুঁজে নেন, আর বোলারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেন। মাঠের চারদিকে আক্রমণ চালান। তার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দিক হল—অভাবনীয় স্ট্রাইক রেট।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার খেলার মান কতটা বদলে গেছে, সেটা পরিসংখ্যানই বলে দেয়। ২৯ টি-টোয়েন্টিতে ১০১২ রান—আর তার স্ট্রাইক রেট ১৮৯.৫১! শুধু বিধ্বংসী নয়, ধারাবাহিকভাবেও ভয়ঙ্কর। কিন্তু বছরভিত্তিক পার্থক্যটাই সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো।

২০২৪ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক বছরটায় অভিষেক ছিল বিস্ফোরক, কিন্তু অসম্পূর্ণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু, যেখানে তিন ইনিংসে ১১০ রান আর একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি—প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তাঁর মধ্যে আগুন আছে। তবে সেই বছর ১১ ইনিংসে ২৫৬ রান, গড় ২৩.২৭, আর স্ট্রাইক রেট ১৭১.৮১—তার সম্ভাবনা যেমন দেখিয়েছে, তেমনি ইঙ্গিত দিয়েছে অভিজ্ঞতার অভাবে স্থিরতা আসতে সময় লাগবে।

কিন্তু ২০২৫ আসতেই যেন অন্য এক অভিষেকের জন্ম দিল। বছরের শুরুতে ইংল্যান্ড সিরিজ যেন তাঁর ক্যারিয়ারের বাঁকবদল। মাত্র পাঁচ ইনিংসে ২৭৯ রান—স্ট্রাইক রেট ২১৯-এর ওপরে! এরপর পুরো বছর জুড়ে তিনি হয়ে উঠলেন আরও পরিণত, আরও ধৈর্যশীল, তবুও আগ্রাসী। শট সিলেকশন নিখুঁত, ইনিংস বিল্ডআপ আরও বুদ্ধিদীপ্ত, আর ব্যাটিংয়ে এক নতুন ধাঁচের আত্মবিশ্বাস।

এই বছরে ১৭ ইনিংসে ৭৫৬ রান করেন, গড় ৪৭.২৫, স্ট্রাইক রেট বেড়ে ১৯৬.৩৬। সেই বছরের একটি সেঞ্চুরি আর পাঁচটি ফিফটি প্রমাণ করে—তিনি কেবল আক্রমণাত্মক ওপেনার নন, তিনি সত্যিকারের ম্যাচ উইনার। তিনি এখন পরিণত আর ধারাবাহিক ওপেনার। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে, টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেরই সেরা ওপেনার হওয়ার সক্ষমতা রাখেন তিনি।

Share via
Copy link