ক্রিকেট বিশ্বের প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই আফগান ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এখন এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থান যত দ্রুত, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন দেশটির ক্রিকেটাররা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এই ব্যস্ততায় শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় খেলোয়াড়দের ওপর। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।
১৪ জানুয়ারি কাবুলে অনুষ্ঠিত এসিবির বার্ষিক সাধারণ সভায় ঘোষণা করা হয়, এখন থেকে আফগান ক্রিকেটাররা বছরে সীমিত সংখ্যক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নিতে পারবেন। বোর্ডের প্রধান লক্ষ্যই হলো খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা, মানসিক চাপ কমানো এবং জাতীয় দলের পারফরম্যান্স আরও ধারাবাহিক করা।
এসিবির মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠেছেন। এর ফলে অনেকেই সারা বছর প্রায় বিরামহীন ক্রিকেট খেলছেন। বোর্ডের ধারণা, এই লাগাতার খেলার চাপ ইনজুরি ও মানসিক ক্লান্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নতুন নীতি অনুযায়ী, একজন আফগান ক্রিকেটার আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) এর পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে পারবেন। বোর্ড মনে করছে, এতে করে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারবেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের শীর্ষ ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে। রশিদ খান, নূর আহমেদ, মুজিব উর রহমান, গাজানফার ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের মতো ক্রিকেটাররা বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে নিয়মিত খেলে থাকেন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকেই আসে তাদের বড় অঙ্কের আয়।
বিশেষ করে রশিদ খান বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-টোয়েন্টি লিগে এমআই কেপ টাউনের অধিনায়ক, পাশাপাশি এমআই এমিরেটস, এমআই নিউ ইয়র্ক এবং আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে খেলছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, রশিদকে বছরে এই লিগগুলোর মধ্যে কেবল তিনটি বেছে নিতে হবে।

এ ধরনের বিধিনিষেধে আফগানিস্তান একা নয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ইতোমধ্যেই তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএল এর বাইরে সর্বোচ্চ দুটি বিদেশি লিগে খেলার অনুমতি দিয়ে থাকে।










