আফগানিস্তান দলটির এখন আর কোন পতন নেই। স্রেফ উত্থান, উত্থান আর উত্থান। আইসিসি ইভেন্টে দলটা একসময় শুধু অংশগ্রহণ করার জন্যই খেলত। কিন্তু বদলেছে দিন, বদলে গেছে আফগানিস্তানের ক্রিকেট। তারা এখন প্রতিটি প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে। সেই মানসিকতার তেজ টের পেয়েছে ইংল্যান্ড দলও।
এরও আগে ২০২৩ সালে তারা ইংল্যান্ডকে দিয়েছিল পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ। সেই বছর পাকিস্তান বুঝেছিল আফগান মশলার ঝাঁজ। সেবার তো ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল দলটি। কিন্তু ভাগ্য তাদের হয়নি সহায়। কিন্তু বছর ঘুরতেই দলটা ঠিকই সেমির টিকিট কেটে নিল। ফরম্যাটটা ভিন্ন হলেও অর্জন নয় সামান্য।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তারা উঠে যায় বিশ্বকে তাক লাগিয়ে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন্স অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে তারা। ধারাবাহিকতার অনন্য নিদর্শন হয়ে ওঠা নিউজিল্যান্ডও ধরাশায়ী হয়েছে আফগানদের দৃঢ়চেতা মানসিকতার সামনে। ক্রিকেট বিশ্ব কি সেদিন বিস্মিত হয়েছিল? কিন্তু বিস্মিত হওয়ার তো বিশেষ কারণ নেই। বিস্ময়ের চূড়ান্ত রুপ দেখেই তো আফগানরা বাস্তবতাকেই বেছে নিয়েছে।

উপত্যকার ঢাল বেয়ে নেমে এসেছে যুদ্ধের ক্ষত। সেই ক্ষত জীবনের মানে শিখিয়েছে, লড়াই করতে শিখিয়েছে, বুঝিয়ে দিয়ে গেছে বাস্তবতা। আফগানিস্তের বুকে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতগুলো দৃঢ় মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। নিজেদের চারিপাশে সংগ্রামের সকল নিদর্শন দেখেই বড় হয়েছেন আফগানিস্তানের প্রতিটা ক্রিকেটার।
তাইতো তারা জানেন জীবনের মানে, তারা বোঝেন প্রাপ্তির তৃপ্তি। তাইতো তাদের প্রচন্ড ক্ষুধা। বিশ্বের দরবারে নিজেদের মহাবীর চরিত্রের জানান দেওয়ার তীব্র পিপাসা। তাইতো প্রতিটা মুহূর্তে তারা বিজয়ের নতুন নতুন অধ্যায় যুক্ত করে নিজেদের রুপকথা করছে সমৃদ্ধ। এই দলটা আরও এক সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্তে।
মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা সহজ হবে না। কিন্তু ২০২৩ সালেই তো এই অস্ট্রেলিয়ার বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। গ্রীক সেনাপতির মত সেদিন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত যুদ্ধ করার ব্রত না নিলেই তো হতে পারত ভিন্ন কিছু। এবার নিশ্চয়ই সেই ভিন্নতার অধ্যায় যুক্ত করতে চাইবেন মোহাম্মদ নবীরা। আফগান জয়রথ এখানেই থামবার নয়।












