সময় বদলায়, দৃশ্য পাল্টায় তবে কিছু জিনিস অক্ষত থেকে যায়। যেমনটা আজিঙ্কা রাহানে আর তাঁর বিশ্বাসের প্রতীক চিহ্ন ওই ব্যাটটা। যা এখনও বহমান স্রোতের মত বয়ে চলে, দলের বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। রঞ্জি ট্রফিতে রাহানের ১৫৯ রানের ইনিংস সেটাই দেখিয়ে দিল আরও একবার।
দলের ঘোরতর বিপদ, রাহানে আছে ও সব দেখে নেবে। সব পরিস্থিতি সামলে নেবে এমন ভরসা তো কতবারই রাখা হয়েছে তাঁর উপর। তিনি সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন, নিজেকে উজাড় করেই দিয়েছেন। তবে নায়কের চরিত্রে ছিল অন্যরা তাই তাঁর ভূমিকাটা পার্শ্বনায়ক, মূল দৃশ্যে তিনি উপেক্ষিত।
তবুও নীরবে নিজের কাজটা করে গেছেন, এমনকি করে যাচ্ছেন এখনও। রঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে আজও যেন সেই পুরনো দৃশ্যের মঞ্চায়ন ঘটালেন।

১৮ রানে যখন প্রথম উইকেটের পতন হলো তিনি ক্রিজে এলেন। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই আরও দু’জন সাজঘরে ফিরলেন তাঁর সামনেই। কিছুটা চাপ মেঘ হয়ে মুম্বাইয়ের আকাশ তখন ঢেকে দেওয়ার আয়োজন করছে।
তবে রাহানে তখন দেওয়াল তুলে দাঁড়িয়ে গেছেন। বোলারদের চোখ পড়ে নিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্ত করে ফেলেছেন। ধীর-স্থির এক চাহনি, প্রতিটা বল যেন প্রাচীরের গায়ে লেগে প্রতিহত হচ্ছে বারবার।
ফিফটি গড়িয়ে শতক এলো, রাহানে তবুও অবিচল রইলেন। দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাঁর ব্যাট। না উইকেট দিলে চলবে না। শেষটাতে ১৫০ রানের গন্ডিও ছুঁয়ে ফেললেন। তবে ১৫৯ রানে থামতে তাঁকে হলোই।

ইনিংস সাজিয়েছেন ২১ চারের সাহায্যে, মোকাবিলা করেছেন ৩০৩ বল। যতক্ষণে ফিরে যাচ্ছেন সাজঘরে ততক্ষণে পুরো কাজটা শেষ হয়েছে। আর তাতেই দলও স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৪০৬ রান।
একটা সময় ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক, এখন রঞ্জিতে তাঁর নেতা শার্দুল ঠাকুর। তবুও দায়িত্বে এক চুলও ছাড় দিতে নারাজ তিনি। সময় গড়িয়েছে ঠিকই তবে কাজটা এখনও একই। বিপদে তিনিই তো ভরসা।











