মাটিতে লুটিয়ে কাতরাবে ব্যথায়, তবুও বুক চিতিয়ে লড়াই করে যাবে। এমন দৃঢ় প্রত্যয়ে আল ফাহাদ আঘাত হানলেন ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা তার বল হাতে। ফাইফার তুলে নেন তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। ভারতের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পারদে উত্তাপ বাড়িয়েছেন আল ফাহাদ।
বৃষ্টিস্নাত দিনে টসে জিতে বাংলাদেশের প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত। আল ফাহাদ নিজ কাঁধে তুলে নিলেন দায়িত্ব। নতুন বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই হানেন জোড়া আঘাত। পরপর দুই বলে দুই টপ অর্ডার প্যাভিলিয়নে। আয়ুশ মাহাত্রে, ভেদান্ত ত্রিবেদীরা ফিরেছেন খালিহাতেই।
মাঝে তো চোট পেয়ে মাঠও ছেড়েছেন ফাহাদ, তাও আবার ওভারের মাঝপথে। ইনিংসের ৩৯ তম ওভারে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ফাহাদ। ওই ওভারেই তিনি উইকেট শিকারের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিলেন। রিজান হোসেন ক্যাচ ফেলে না দিলে তখনই ফাহাদের ঝুলিতে যুক্ত হতো তৃতীয় উইকেট।

মাঠের বাইরে গিয়ে সেবা-শুশ্রূষা শেষে তিনি আবার লড়াইয়ের ব্রত নিয়ে মাঠে নামলেন। এবার তার হাতে পুরনো বল। ইনিংসের শেষভাগে ৪৫ তম ওভারে এলেন বোলিং প্রান্তে। এসেই তুলে নেন খিলান প্যাটেলের উইকেট। এরপর ভারতের ইনিংসের সমাপ্তি রেখাও তিনিই টেনে দেন। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে খিলান প্যাটেল আউট হওয়ার পর, বাকি দুই উইকেটও ওই আল ফাহাদের ঝুলিতেই যায়।
শেষের স্পেলে তিনটি ওভারেই একটি করে উইকেট গিয়েছে ফাহাদের পকেটে। ৮০ রান করা অভিজ্ঞান কুণ্ডুরকে নবম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে পাঠান ফাহাদ। নিজের ফাইফার তিনি পূর্ণ করেন দীপেশ দেভেন্দ্রের উইকেট তুলে নিয়ে। চোটও টলাতে পারেনি আল ফাহাদের ছন্দকে। ৯.২ ওভারের বোলিং স্পেলে আছে একটি মেইডেনও। ৩৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতকে ২৩৮ রানে আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আল ফাহাদ।
এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে হেনিল প্যাটেলের পর দ্বিতীয় ফাইফার তুলে নিলেন বাংলাদেশের ফাহাদ। বোলার হিসেবে নিজের দায়িত্বটা পরিপূর্ণভাবেই পালন করেছিলেন তিনি। বাকি কাজটা ছিল ব্যাটারদের। তবে উইকেট শিকারের এই ধারা নিশ্চয়ই চলমান রাখতে চাইবেন ফাহাদ। তাতেই যুক্ত হতে পারে ব্যক্তিগত অর্জন, দলগত অর্জনেও রাখতে পারবেন অবদান।












