বিশ্বসেরার চূড়া থেকে বারংবার ছিটকে যাচ্ছেন অ্যালিসন

বিশ্বসেরা গোলরক্ষক হওয়ার সব গুণাবলিই নিজের মধ্যে ধারণ করেন অ্যালিসন বেকার। মহানায়ক হওয়ার সুযোগ গুলো তিনি হাত ছাড়া করছেন বারংবার।

নশ্বর এই পৃথিবীতে কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আপনি নায়ক থেকে খলনায়ক বনে যেতে পারেন চোখের পলকে। অ্যালিসন বেকার জানেন খলনায়ক হতে না চেয়েও খলনায়ক হওয়ার কষ্ট ঠিক কতটুকু। ইউরোপের ফুটবলের জমকালো রাতটা তার জন্যে ভীষণ বিবর্ণ।

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের মাঠে কি অনবদ্য পারফরমেন্স দেখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ঘরের মাঠে, টাইব্রেকারে তিনি একেবারেই আমড়া কাঠের ঢেঁকি। সফরকারীদের চারটি শটের একটি তিনি ঠেকাতে পারেননি। এখানেই তাই বিশ্বসেরা গোলরক্ষকের তকমাটা জুড়ে যেতে পারে না তার সাথে। বারংবার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ নামক এক পাগলাটে দানবের প্রসঙ্গ চলে আসে।

পেনাল্টি শট ঠেকানো কোন সহজ কাজ নয়। অ্যালিসন বেকার বেশ ক’বার টের পেয়েছেন সেটা। সেই ২০২২ বিশ্বকাপের ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটা মনে আছে নিশ্চয়ই। সেদিন একটি পেনাল্টি শ্যুটও ঠেকিয়ে দিতে পারলে, দৃশ্যপট ভিন্ন হয়ে যেতে পারত। কিন্তু দু’বার বলের লাইনে গিয়েও অ্যালিসন ঠেকাতে পারেননি। ব্রাজিল বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।

কিন্তু এবারের উড়তে থাকা লিভারপুল রাউন্ড অব সিক্সটিনের গণ্ডি পেরুতে পারল না। ইউরোপের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া লিগ বলা হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে। সেখানে লিভারপুলের অবস্থান সবার উপরে। দুই নম্বরে থাকা আর্সেনালের সাথে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান ১৫। এই দলটা এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার অন্যতম দাবিদার ছিল বটে।

কিন্তু ধুকতে থাকা প্যারিস সেইন্ট জার্মেই হুট করে যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়ে গেল। নিজেদের ঘরের মাঠে তারা লিভারপুলের কাছে হেরেছিল ১-০ গোলে। অবশ্য সেদিন পিএসজি লিভারপুলের কাছে নয় অ্যালিসনের কাছে হেরেছিল বলাটাই স্রেয়। নয়বার পিএসজির সকল আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। সেদিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি।

সেই তিনি দ্বিতীয় দেখায় বনে গেছেন আংশিক খলনায়ক। ইব্রাহিমা কোনাতে, ডারউইন নুনেজ, এরাও আর্নে স্লটের জন্যে ভিলেন রুপেই হাজির হয়েছিলেন অ্যানফিল্ডে। তবুও অ্যালিসন দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। তাকে দোষারোপ করাও খুব একটা অযৌক্তিক নয়।

বিশ্বসেরা গোলরক্ষক হওয়ার সব গুণাবলিই নিজের মধ্যে ধারণ করেন অ্যালিসন বেকার। অন প্লে-তে যথাযথ পজিশনে পৌঁছে গিয়ে বল নিজের আয়ত্বে নেওয়া। প্রতিপক্ষের শটের লাইনে গিয়ে শক্তিশালী এক প্রচেষ্টাকেও মামুলি বানিয়ে ফেলার মত গুণ রয়েছে তার।

ফ্লেক্সিবিলিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু মস্তিষ্কের খেলায় তিনি বারবার পরাজিত হন। মহানায়ক হওয়ার সুযোগ গুলো তিনি হাত ছাড়া করছেন বারংবার। নতুবা অর্জনের খেড়োখাতা এতদিনে শেষ পৃষ্ঠায় পৌঁছে যেতে পারত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link