অলরাউন্ডার ফর্মুলা ও ‘গড অব স্মল থিঙস’

অবশ্য এই পদ্ধতি যে ফুলপ্রুফ এমন দাবি করা যাবে না! এতে ফিল্ডিং, ক্যাপ্টেনশিপ বা রানিং বিটউইন দ্য উইকেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরা হয় নি! ইন ফ্যাক্ট, সেভাবে দেখতে গেলে কোন পদ্ধতিই সম্ভবত সবদিক দিয়ে সম্পূর্ণ নয়! কিন্তু তবু এর মাধ্যমে একটা মোটামুটি ধারনা করা যেতে পারে!

সেরা অলরাউন্ডার বাছাই করার একটা সহজ পদ্ধতি হল তাঁদের রানের গড়ের থেকে উইকেট পিছু দেওয়া রানের গড়কে বিয়োগ করে বিচার করা! যার ক্ষেত্রে এই বিয়োগফল যত বেশি, সে তত বড় অলরাউন্ডার!

এই বিচারে সোবার্স বা ক্যালিসকে টেস্ট ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার বলা হয়! অলরাউন্ডারদের স্বর্ণযুগেও এর মান যার সবচেয়ে বেশি ছিল – ইমরান খানের – তাকেই বেশির ভাগ বোদ্ধাই শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দিয়ে থাকেন! এটা ঠিক যে এই পদ্ধতি অতি সরলীকরণ দোষে দুষ্ট – উইকেটের মান, প্রতিপক্ষ, পিচ, খেলার ধরণ, ইত্যাদি অনেক কিছুই বাদ চলে যায় কিন্তু তবুও এই পদ্ধতির ভক্তের সংখ্যা কম নয়।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও কি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা সেরা অলরাউন্ডার বের করার চেষ্টা করতে পারি?

হয়ত, তবে কিছু এডজাস্টমেন্টের দরকার আছে! এটা দরকার এইজন্যে যে একদিনের খেলায় ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে স্ট্রাইক রেট আর বোলিংয়ের ক্ষেত্রে ইকোনমি রেট বেশ গুরুত্বপূর্ণ! কিছু উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে।

ধরুন একজন ব্যাটসম্যানের গড় ৪০ কিন্তু স্ট্রাইক রেট ৭০! এখন ওনাকে যদি পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে তিনি কত রান করবেন? একটু হিসেব করলেই বোঝা যাবে উনি ২১০ রান করবেন (৩০০ বলে ৭০এর স্ট্রাইক রেটে)!

অন্যদিকে একজন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট হয়ত ৯৫ কিন্তু গড় মাত্র ২৫ – সেক্ষেত্রে? সেক্ষেত্রে যদিও স্ট্রাইক রেট হিসেবে উনি ২৮৫ রান করার সামর্থ্য রাখেন কিন্তু যেহেতু ওনার গড় মাত্র ২৫, উনি ২৫০ রান তুলেই ১০ বার আউট হয়ে যাবেন! অর্থাৎ গড় আর স্ট্রাইক রেট ধরে যেটা কম হবে, তত রানই করতে পারবেন একটা ব্যাটসম্যান।

বোলারের ক্ষেত্রেও মোটামুটি এই ফর্মুলাই ব্যাবহার করা যায়! অর্থাৎ কোন বোলার যদি উইকেট পিছু ২২ রান দেন ওভার পিছু ৫ রান দিয়ে তাহলে তিনি ২২০ রানেই বিপক্ষকে অল আউট করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু যদি ওভার পিছু তিনি ৪ রান দেন তাহলে ৫০ ওভারে তাঁর দেওয়া রান দাঁড়াবে ২০০ যদিও বিপক্ষ অল আউট হবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও দুই পদ্ধতিতে যেটায় কম রান হবে ততটাই রান দেবেন বোলার এই ৫০ ওভারে!

এভাবে যদি আমরা একদিনের ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার বের করার চেষ্টা করি তাহলে যে লিস্টটা পাবো সেটা যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। সেক্ষেত্রে এক নাম্বারে থাকবেন দক্ষিণ আফ্রিকার অত্যন্ত আন্ডাররেটেড অথচ ভীষণ কার্যকারী ক্রিকেটার শন পোলক।

৫০ ওভারে উনি ২৬০ রান করবেন, অথচ দেবেন মাত্র ১৮৪ রান! ওনার নেট পয়েন্ট হবে (২৬০-১৮৪) = ৭৬! এরপরই থাকবেন আমাদের অদ্বিতীয় কপিলদেব! উনি স্কোর করবেন ২৩৮, রান দেবেন ১৮৬! নেট পয়েন্ট ৫২! এভাবে যদি সর্বকালের সেরা ১০ অলরাউন্ডারের লিস্ট করা হয় তাহলে সেটা হবে এরকম।

  • শন পোলক (২৬০ – ১৮৪ = ৭৬)
  • কপিল দেব (২৩৮ – ১৮৬ = ৫২)
  • ভিভ রিচার্ডস (২৭১ – ২২৫ = ৪৬)
  • রিচার্ড হ্যাডলি (২১৩ – ১৬৭ = ৪৬)
  • অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ (২৬৬ – ২২০ = ৪৬)
  • ল্যান্স ক্লুজনার (২৭০ – ২৩৫ = ৩৫)
  • সনাথ জয়াসুরিয়া (২৭৪ – ২৪০ = ৩৪)
  • ইয়ান বোথাম (২৩২ – ২০০ = ৩২)
  • সাকিব আল হাসান (২৪৮ – ২২৪ = ২৪)
  • ইমরান খান (২১৮ – ১৯৫ = ২৩)

অনেকেই নিশ্চই এই লিস্টে জ্যাক ক্যালিসের মতো ক্রিকেটারের নাম নেই দেখে অবাক হচ্ছেন। কিছু করার নেই! উনি ৫০ ওভারে স্কোর করবেন ২১৯ রান, দেবেন ২৪২ রান, ওনার নেট পয়েন্ট মাইনাস ২৩!

অবশ্য এই পদ্ধতি যে ফুলপ্রুফ এমন দাবি করা যাবে না। এতে ফিল্ডিং, ক্যাপ্টেনশিপ বা রানিং বিটউইন দ্য উইকেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরা হয় নি! ইন ফ্যাক্ট, সেভাবে দেখতে গেলে কোন পদ্ধতিই সম্ভবত সবদিক দিয়ে সম্পূর্ণ নয়। কিন্তু তবু এর মাধ্যমে একটা মোটামুটি ধারনা করা যেতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...