দুই প্রজন্মেই ব্রাজিলিয়ানদের সাথী আনচেলত্তি

কার্লো আনচেলত্তি—ইউরোপিয়ান ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার পরিপূর্ণ করেছেন অসংখ্য ট্রফি ছুঁয়ে। তবে এবার নিয়েছেন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দশক শিরোপাবিহীন ব্রাজিল শিবিরে একটা ট্রফি এনে দেওয়ার মিশনে ইউরোপ ছেড়ে এই প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্বে। তাও আবার ফুটবল-নান্দনিকতার এক প্রতীকি নাম—ব্রাজিলের ডেরায়।

দিশেহারা ব্রাজিল অবশেষে খুঁজে পেল পথ। পথপ্রদর্শক হিসেবে সেলেসাওদের ডেরায় যোগ দিলেন কার্লো আনচেলত্তি। নতুন পথচলা কতটুকু মসৃণ হতে যাচ্ছে দু’পক্ষের জন্য, তা নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া।

কার্লো আনচেলত্তি—ইউরোপিয়ান ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার পরিপূর্ণ করেছেন অসংখ্য ট্রফি ছুঁয়ে। তবে এবার নিয়েছেন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দশক শিরোপাবিহীন ব্রাজিল শিবিরে একটা ট্রফি এনে দেওয়ার মিশনে ইউরোপ ছেড়ে এই প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্বে। তাও আবার ফুটবল নান্দনিকতার এক প্রতীকি নাম—ব্রাজিলের ডেরায়।

আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা, সংশয়ও। কতটুকু প্রত্যাশা মেটাতে পারবেন তিনি? আদৌ দলের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন কি? এমন সব প্রশ্ন ঘুরছে চক্রাকারে। তবে ইতিহাসে ফিরে তাকালে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক বরাবরই ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ, পেশাদার এবং ফলপ্রসূ।

২০০৭ সালে এসি মিলানের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে যখন আনচেলত্তি ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তখন তার দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন কাকা, কাফু, ডিডা ও সার্জিনহোরা। এই ব্রাজিলিয়ান তারকারা মাঠের খেলায় রেখেছিলেন অনবদ্য ভূমিকা, যার পেছনে আনচেলত্তির পরিকল্পনার বড় অবদান ছিল। সেবার নজর কেড়েছিল মিলানের ব্রাজিলিয়ানদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াটা।

এরপর সময় গড়িয়েছে। মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদে এসে আনচেলত্তি আবারও পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ান তারকা — ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগো ও মিলিতাওদের। রিয়ালে যাদের কাঁধে ভরসার হাত রেখেছেন তিনি। সময়, সুযোগ দিয়ে পারফরম্যান্সটা বের করে এনেছেন ভিনি-রদ্রিগোদের থেকে।

তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব ইউরোপিয়ান ক্লাব কোচিংয়ের চেয়ে ভিন্ন। সময় কম, প্রস্তুতি সীমিত, আর প্রত্যাশা পাহাড়সম। বিশেষ করে ব্রাজিলের মতো দেশে, যেখানে বিশ্বকাপ ছাড়া বিকল্প নেই। এই চ্যালেঞ্জটাই হয়তো আনচেলত্তিকে পড়ন্ত বেলায় এখানে নিয়ে এসেছে।

অনেকেই বলছেন, ব্রাজিলের স্বাভাবিক খেলার ধাঁচের সঙ্গে আনচেলত্তির দর্শন যায় না। তবে মাদ্রিদে যেমন ভিনিসিয়াসদের নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছেন, তেমনই জাতীয় দলেও হয়তো সেটিই করবেন।

সবচেয়ে বড় বিষয়, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের নিয়ে আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তাই তো চ্যালেঞ্জটা বুঝতে ইউরোপের দাপুটে এই কোচের খুব একটা সমস্যা হবে না। আনচেলত্তির উপস্থিতি ব্রাজিল শিবিরে ইতিমধ্যেই যে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে, অপেক্ষাটা এখন তাঁর বাস্তব রূপ দেখার।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link