তোর টিমে, তোর পাশে

তিনজনই তো নিজেদের জায়গায় যুদ্ধ করেছেন। একটাই উদ্দেশ্য—ভারতকে সোনালী গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া। আজ আর কোনোকিছুই আলাদা ছিল না, শিরোপার এই জয় সবার ছিল। কিন্তু, সেই জয়কে উদযাপন করার আগে যে তারা নিজেদের সব আঘাত আর বিতর্ক মুছে দিলেন, সেটি ছিল আরও বড় উপলব্ধি।

তাঁদের মধ্যে অদৃশ্য একটা দেওয়াল ছিল। একটা যুদ্ধ ছিল। একটা ব্যক্তিত্বের সংঘাত ছিল। আজও তাঁরা স্ট্যাম্প দিয়ে ঢাল তলোয়ারের মত করে যুদ্ধ করলেন। কিন্তু, মুখে হাসি। ওই চোখ জোড়ায় কোনো বিদ্বেষ নেই। শুধু ভালবাসা আছে। ভালবাসার গান আছে, যেখানে অবলীলায় বলা যায় – রাখবো হাত তোর কাঁধে, তোর টিমে-তোর পাশে। রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলিদের মধ্য শুধুই নিখাঁদ বন্ধুত্ব। কোনো বৈরীতা নেই, বন্ধুত্বের খাতিরে তাঁরা সম্ভবত মাঠে জীবন বিলিয়ে দিতেও প্রস্তুত। বিশ্ব জয় করে তাঁরা তাই একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে জানেন।

যে গৌতম গম্ভীরের সাথে আইপিএলে কোহলি দফায় দফায় লাগতে জানেন, তাঁকেও ভারতের ছায়াতলে আকড়ে ধরেন। জড়িয়ে ধরেন বিজয়ের আনন্দে। সতীর্থ হয়ে ২০১১ সালে দু’জন ভারতকে এনে দিয়েছিলেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবার কোচ-খেলোয়াড় হয়ে আনলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।

মাঠে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, আর তিক্ততা ছিল বলেই মনে হত একটা সময়। গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা—এই তিনজনের মধ্যেই যেন কোনো না কোনো অজানা বোঝাপড়া ছিল, যে বোঝাপড়ার আঁচ অবশ্য কখনো কখনো মাঠের বাইরের ‘গসিপ’ হয়ে ওঠে। কিন্তু, এবার সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল, এমনকি পুরনো যেসব ঘৃণা আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ‘যুদ্ধ’, সেই সব মনে রাখার সময় আর কারও নেই।

তিনজনই তো নিজেদের জায়গায় যুদ্ধ করেছেন। একটাই উদ্দেশ্য—ভারতকে সোনালী গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া। আজ আর কোনোকিছুই আলাদা ছিল না, শিরোপার এই জয় সবার ছিল। কিন্তু, সেই জয়কে উদযাপন করার আগে যে তারা নিজেদের সব আঘাত আর বিতর্ক মুছে দিলেন, সেটি ছিল আরও বড় উপলব্ধি।

বিরাট কোহলি, গৌতম গম্ভীরকে বুকে টেনে নিলেন। কোনো অতীতের স্মৃতি, কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি—কিছুই আর মনে রইল না। তৃতীয় পুরুষের চোখে তারা দুই চিরশত্রু, কিন্তু মাঠে তারা এক। তখনই যেন প্রতিটি শত্রুতা, প্রতিটি মতপার্থক্য মুছে গিয়ে তারা একাকার হয়ে গেলেন। সেই দৃশ্য, দুবাইয়ের আলোয়, একে অপরকে বুকে আঁকড়ে ধরে চ্যাম্পিয়নদের মতো উদযাপন—তা তো আরও বেশি বাস্তবিক মনে হয়, জানিয়ে দেয় শিরোপা শুধু একটা ট্রফি নয়, বরং মনকে একে অপরের কাছে পৌঁছানোর রীতিও।

তারপর রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি — এই দুই অভিজ্ঞ যোদ্ধা মাঠে নামলেন, হাতে স্ট্যাম্প, চোখে আস্থা। এই দৃশ্যেই যেন ফুটে উঠল পুরনো দিনের সেই চমৎকার দোস্তি, যেখানে প্রতিপক্ষের কোন ভয় ছিল না। বাইশ গজের গালিচায় নাচ, হাসি, আনন্দ — এটাই ছিল তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এখানে আর কোনো তিক্ততা ছিল না, ছিল শুধুই ভরসা এবং আনন্দ। তারা চ্যাম্পিয়ন, আর চ্যাম্পিয়নদের জন্যে একে অপরকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর আত্মবিশ্বাসই যথেষ্ট। দুবাইয়ের এই জয় কোনো ব্যক্তিগত নয়, দলীয় জয়—এটাই সত্য। কে বলে, আজ রাতে কোনো রূপকথা নেই!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link