স্টেডিয়ামের তপ্ত রোদে কিংবা ফ্লাডলাইটের আলোতে যখন ব্যাট-বলের লড়াই চলে, তখন মাঠের সীমানার ভেতরে কেবল রান আর উইকেটের হিসাব হয় না, মাঝেমধ্যে সেখানে লেখা হয় বঞ্চনার এক অদৃশ্য ইতিহাস। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেন সেই না বলা গল্পের এক দর্পণ। যেখানে সহযোগী দেশগুলো ক্রিকেট বিশ্বের পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করছে। কিন্তু মাঠের সেই বীরত্বগাথার আড়ালে রয়ে গেছে এক দীর্ঘশ্বাস।যা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার শায়ান জাহাঙ্গীর।
নেদারল্যান্ডস যখন পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে খাদের কিনারে নিয়ে যায়, কিংবা নেপাল যখন ইংল্যান্ডের নাভিশ্বাস তোলে, তখনই ফুটে ওঠে ক্রিকেটে সৌন্দর্য ও রোমাঞ্চ।এমনকি ভারতের মতো ক্রিকেটীয় পরাশক্তিও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড়সড় ধাক্কা খেতে বসেছিল।
কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আসরের আগে বড় দলগুলো যেখানে অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে সিরিজ খেলে প্রস্তুতি নেয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দলের সাথে খেলে।

শায়ান সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়েছেন, ‘আইসিসি থেকে যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা বা সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল, তা এখনো অধরা। বছরে মাত্র ১২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ নিয়ে কোনো দলই বিশ্বের সেরা স্তরে টিকে থাকতে পারে না।’
শায়ান আরও বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত ফান্ড নেই, নেই বড় কোনো টুর্নামেন্ট বা মানসম্মত স্টেডিয়াম। আমরা কেবল আমাদের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে লড়ে যাচ্ছি।’
সহযোগী দেশগুলো থেকেও যে অনেক প্রতিভার উদয় হয় তার উদাহরণ দিতে গিয়ে নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরির কথা তুলে ধরেছেন শায়ান। মাত্র ৯ বলে অর্ধ শতক হাঁকিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া এই প্রতিভা আজও বিশ্বমানের লিগগুলোতে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য লড়াই করছেন। শায়ান মনে করেন, এই প্রতিভাগুলো যদি কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের হতো, তবে আজ সারা বিশ্ব তাদের নামে জয়ধ্বনি দিত।











