নিলামের দামামা ফিরে আসছে বিপিএলে। আর নয় সাদামাটা প্লেয়ার্স ড্রাফট। গুঞ্জন বেশ প্রবল- আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে হলে, ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে নামতে হবে নিলামের লড়াইয়ে। মাঠের লড়াইয়ের আগেই উত্তাপ ছড়াবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোন এক পাঁচ তারকা বলরুমে।
উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী। এ দর হাকাচ্ছে, তো আরেকজন সেই দর ছাপিয়ে যাচ্ছে। তুমুল দ্বন্দ। খেলোয়াড়ও উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষমান। দর্শকরাও উন্মুখ হয়ে অপেক্ষায়, প্রিয় খেলোয়াড় যাবেন কোন দলে? কত চড়া দামে তিনি পাবেন দল?- এসব আলোচনার সাথে খুব একটা পরিচিত নন বাংলাদেশের দর্শকরা। সেই আদিকালে, নিলাম হয়েছিল বিপিএলে। এরপর স্রেফ নামকাওয়াস্তে প্লেয়ার্স ড্রাফট নিয়মে খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছিল বিপিএলের দলগুলো।
কিন্তু নতুন বোর্ড, ফিরিয়ে আনতে চাইছে পুরনো জৌলুস। সে ধারাবাহিকতায় পাঁচ বছরের জন্য ফ্রাঞ্চাইজির মালিকানা প্রদান করা হয়েছে নতুন ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে। এবার শোনা যাচ্ছে, নিলামও অনুষ্ঠিত হবে। বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জাঁকজমকভাবেই যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ।

২০১২ সালে প্রথমবার যেবার বিপিএল মাঠে গড়াল, সেবার নিলাম পদ্ধতিতেই দল গঠন করেছিল ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। সেই ধারা অব্যাহত থেকেছিল ২০১৩ সালের আসরেও। কিন্তু এরপর বিপিএল মাঠেই গড়ায়নি ২০১৪ সালে। ২০১৫ সালে আবার ফিরল বটে। কিন্তু তখন বিপিএলের সাথে আর ফেরেনি নিলাম।
এরপর আরও আটটি আসর আয়োজিত হয়েছে। নানামুখী সমালোচনা সামাল দিতে গিয়েই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নতুনত্বের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ অবধি প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ফারাকটা রীতিমত দর্শকদের মাঝে বিতৃষ্ণার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু নিলামের খবর চাওড় হওয়ার পর থেকেই উৎসবের মৃদু হাওয়া যেন বইতে শুরু করেছে।
যদিও এখনও নিলামের সিদ্ধান্তটি প্রক্রিয়াধীন। কতজন খেলোয়াড় নিলাম থেকে নিতে পারবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো, সর্বোচ্চ কত অর্থকড়ি খরচ করতে পারবে, সেসবের খসড়া নিয়েই আলোচনা চলমান। তবে ১৩-১৫ জন স্বদেশী খেলোয়াড় নিতে পারবে বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। সে সাথে বিদেশি খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে হয়ত কোন বাঁধা-ধরা নিয়ম থাকবে না।

কেননা বিশ্বের অন্যসব ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের সাথে বিপিএলের সময়টা সাংঘর্ষিক। তাইতো বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে শঙ্কা থাকে। সে কারণে বিদেশি খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর নির্ধারতি সংখ্যা হয়ত থাকবে না। তবে পারিশ্রমিক নিয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে দেবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। নিলামের আগে স্রেফ তিনজন খেলোয়াড়কেই সরাসরি চুক্তিবদ্ধ করতে পারবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।
মোদ্দাকথা জোরালভাবেই বিসিবি এদফা নিলামের পথেই হাটতে চায়। যদিও অধিকাংশ ফ্রাঞ্চাইজি ইতোমধ্যে সরাসরি চুক্তির আওতায় খেলোয়াড়দের সাথে দর কষাকষি শুরু করে দিয়েছে। একটু ঘোলাটে পরিবেশ। তবে ইতিবাচকতাই বরং সবচেয়ে বেশি।











