দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার আজম খান এবার নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে নামছেন এক বিশেষ মিশনে। লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (এনসিএ) তিনি এখন কঠোর ফিটনেস ও ওজন কমানোর কর্মসূচিতে আছেন। লক্ষ্য একটাই — আগের ভুলগুলো শুধরে আবার ফিরতে চান পাকিস্তান দলে।
২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে নির্বাচকদের নজরের বাইরে আজম। তবে হাল ছাড়েননি। নিজের ঘাটতিগুলো খোলাখুলিই স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে আজম বলেন, ‘আমি এখন লাহোরে আছি, ফিটনেস আর খেলার উন্নতিতেই মন দিচ্ছি এনসিএতে। ওজন কমানো এক–দুই সপ্তাহের বিষয় নয়, সময় লাগে। গত চার–পাঁচ বছর আমি নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছি, তাই ফিটনেসে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাইনি।’
আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে ফিটনেস ও পারফরম্যান্স একে অপরের পরিপূরক, সেখানে আজমের এই স্বীকারোক্তি বেশ ব্যতিক্রমী। তবে এবার আর অজুহাত দিচ্ছেন না তিনি।

নিজের পুরোনো খারাপ খাদ্যাভ্যাস নিয়েও মুখ খুলেছেন, ‘আগে খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস খুব খারাপ ছিল, কিন্তু সেটা এখন আর কোনো অজুহাত নয়। এটাও ঠিক যে আমার ওজন এক-দুই সপ্তাহে কমবে না। অনেক অভ্যাস পাল্টাতে হবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপে সময় বের করাও কঠিন।’
২৭ বছর বয়সী আজম, সাবেক অধিনায়ক মঈন খানের ছেলে, যিনি তাঁর শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের জন্য পিএসএলসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নজর কেড়েছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ওজন ও ফিটনেস ঘাটতি তাঁকে জাতীয় দলে ফিরতে বাধা দিয়েছে।
এখন তিনি প্রতিদিন কঠোর ট্রেনিং ও নিয়ন্ত্রিত ডায়েট মেনে চলছেন। ওজন কমানো আর সহনশক্তি বাড়ানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এনসিএ–র প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নতুন করে শুরু হয়েছে তাঁর ‘ফিটনেস কামব্যাক’। আজম এবার কোনো শর্টকাট খুঁজছেন না, তিনি বলেন, ‘সময় লাগলে লাগুক, কিন্তু আমি প্রস্তুত। আমি আর মোটা ডাক শুনতে চাই না।’

সমালোচনার ঘূর্ণিপাকে থেকেও যদি আজম এই লড়াইয়ে সফল হন, তাহলে হয়তো পাকিস্তান আবার পারে একজন ফিট, ক্ষুরধার আজম খানকে — নিজের প্রতিশ্রুতির নতুন মিশনে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন তো এই পাওয়ার হিটার?










