আজম খানের ঝড়ে উড়ে গেল রাওয়ালপিন্ডি!

পাকিস্তান সুপার লিগের মঞ্চে যেন হঠাৎ করেই বইল এক বিধ্বংসী ঝড়! আর সেই ঝড়ের নাম,  আজম খান। দীর্ঘকায় শরীর নিয়ে হাজির হলেন খুনে মেজাজে। প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করলেন।

পাকিস্তান সুপার লিগের মঞ্চে যেন হঠাৎ করেই বইল এক বিধ্বংসী ঝড়! আর সেই ঝড়ের নাম,  আজম খান। দীর্ঘকায় শরীর নিয়ে হাজির হলেন খুনে মেজাজে। প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করলেন।

১৯৮ রানের লক্ষ্য, ব্যাট হাতে চার নম্বরের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নামেন আজম। এরপরই সবকিছু নিজের করে নেন। রাওয়ালপিন্ডির বোলারদের জন্য দিনটা কাটে দুঃস্বপ্নের মতো, আর আজম খানের জন্য একেবারেই স্বপ্নের বিকেল।

ব্যাট হাতে নেমে যেন শুরু থেকেই ঘোষণা দিয়ে দিলেন, আজ থামার দিন নয়, আজ ধ্বংসের দিন! বল একের পর এক আছড়ে পড়ছে বাউন্ডারির বাইরে, বোলাররা অসহায় তাকিয়ে দেখছেন এক তাণ্ডবলীলা।

তবে শুধু ঝড় তুলেও ক্ষান্ত হননি, দলকে আগলে রাখার কাজটা করেছেন সুনিপুণভাবে। জেতার সব বন্দোবস্ত করেছেন নিজের হাতে।

মাত্র ৩৪ বলেই ৭৪ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস। স্ট্রাইক রেট? অবিশ্বাস্য ২১৭! যেন ভিডিও গেম খেলেছেন। এ যেন আজম খানের নির্মম ব্যাটিংয়ের গল্প।

শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসন। ফুল লেংথ, শর্ট লেংথ, কোনো বলই রেহাই পায়নি। ছয় টি চার আর ছয়টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস ছিল নিখাদ পাওয়ার হিটিংয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ।

বিশেষ করে স্পিনারদের ওপর তার আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। লাইন-লেংথের সামান্য ভুল, আর সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে বোলারদের। পেসাররাও ছিলেন সমান অসহায়। রাওয়ালপিন্ডির বোলিং ইউনিট যেন বুঝতেই পারছিল না, কোথায় বল করবে। তাঁর সুবাদে দলও জিতেছে পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে।

অবশ্য এই আজম খানই গত আসরে ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ। ছয় ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৬৬ রান। বাধ্য হয়েই দল থেকে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড বসিয়ে রেখেছিল তাঁকে। তবে এবার আর সেই সুযোগ দিলেন না আজম খান। তিনি যে ব্যাট হাতে করাচি কিংসের ভরসার নাম।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link