এইতো গুটি কয়েক বছর আগেও পাকিস্তান ক্রিকেটের আকাশে কালো মেঘ জমলে সবাই একজনের দিকেই তাকিয়ে থাকত – বাবর আজম। টি-টোয়েন্টির মারকাটারি এবং অস্থির আবহে বাবর ছিলেন এক প্রশান্তির নাম, এক নির্ভরতার নোঙর। তখন পাকিস্তান দলের পুরো গেমপ্ল্যানটাই আবর্তিত হতো তাকে ঘিরে। বাবর এক প্রান্ত আগলে রাখবেন, আর বাকিরা তাকে ঘিরে নির্ভার হয়ে খেলবেন।
কিন্তু সময় যে এক বহমান নদী। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই সংস্করণের ব্যাকরণ বদলে গেছে। আর সেই সঙ্গে খোদ বাবর আজমকে নিয়েই এখন পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয়েছে এক তীব্র বিতর্ক। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই ব্যর্থতার পরে বাবরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
বাবরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো কোচ রাখঢাক না করে তার সীমাবদ্ধতাকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। পাকিস্তানের বর্তমান হেড কোচ মাইক হেসন কোনো প্রকার লুকোছাপা না করেই স্বীকার করেছেন যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে বাবরের স্ট্রাইকরেট ১০০ এর নিচে নেমে যাওয়াটা দলের জন্য দুশ্চিন্তার।

হেসনের সমাধান হলো – বাবরের ভূমিকা বদলে ফেলা। তিনি মনে করেন, বিপর্যয়ের মুহূর্তে বাবর কার্যকর হতে পারেন। কিন্তু একবার যখন ইনিংস গুছিয়ে যাবে, তখন বাবর আর দলের সেরা বিকল্প নন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গেছে, ফিনিশিংয়ের প্রয়োজনে বাবরের আগে বড় শট খেলতে সক্ষম ব্যাটারদের নামিয়ে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
কিন্তু বর্তমানে আধুনিক ক্রিকেটে চার নম্বর পজিশনটিও দাবি করে তাৎক্ষণিক প্রভাবের। সেখানে ক্রিজে থিতু হওয়ার জন্য সময় বরাদ্দ থাকে না। অথচ বাবর আজমের প্রকৃতিই হলো সময় নিয়ে খেলা। তিনি যেখানে প্রতি নয়-দশ বলে একটি বাউন্ডারি মারেন, সেখানে আধুনিক টি-টোয়েন্টি প্রতি চার-পাঁচ বলে একটি বাউন্ডারি দাবি করে।
আক্ষরিক অর্থে বাস্তবতা মেনে নিলে বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলে বাবরের আদতে কোনো জায়গা নেই। ওপেনিংয়ে খেললে পাওয়ারপ্লেতে মন্থর গতির ব্যাটিং দলকে বিপদে ফেলে। আবার চার নম্বরে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতেও ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি।











