বাবর ‘বিরাট’ নন, তবে…

নিজেদের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এমন ভরাডুবির পর পাকিস্তান ক্রিকেট এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। দল, অধিনায়কত্ব আর কাঠামো — সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য।

বাবর আজম আর বিরাট কোহলির নামটা পাশাপাশিই উচ্চারিতই হয়। কিন্তু, বাস্তবতা কি বলে? বাস্তবতা বলে কোহলির চেয়ে যোজন যোজন দূরে আছেন বাবর আজম।

নিজেদের মাঠে স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ করেছে পাকিস্তান, তাও কোনো জয় ছাড়াই! ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থতা— সব মিলিয়ে দলটা ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। গ্রুপ পর্ব থেকে সবার আগে বাদ পড়ার পর প্রশ্ন উঠে এসেছে দল নির্বাচন, পারফরম্যান্স আর নেতৃত্ব নিয়ে। আর সেই বিপর্যস্ত পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সমালোচিত নাম বাবর আজম।

নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তবে এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট। এক সাক্ষাৎকারে বাবরের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তার পরিসংখ্যান টেনে এনে কড়া জবাব দিয়েছেন সমালোচকদের।

বাবরের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, ‘ওর টেস্ট গড় ৪২.৭৭, সেঞ্চুরি ৯টা, হাফ-সেঞ্চুরি ২৯টা। ওয়ানডেতে গড় ৫৫.৫০, সেঞ্চুরি ১৯টা, হাফ-সেঞ্চুরি ৩৫টা। টি-টোয়েন্টিতেও গড় ৩৯.৮৩, স্ট্রাইক রেট ১২৯। কেউ কি বলবে, গত ২০ বছরে পাকিস্তানে এর চেয়ে ভালো পারফর্মার আছে?’

সালমান বাটের মতে, বাবরের সমালোচনা হলেও বাস্তবতাও বুঝতে হবে। ভারতের মতো ব্যাটিং লাইনআপ পাকিস্তানের নেই। তাই কোহলি কিংবা উইলিয়ামসনের সাথে বাবরের তুলনা করাও অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ‘তুলনাটা বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। পাকিস্তানের হাতে কোনো কোহলি নেই, উইলিয়ামসনও নেই। বাবর কোহলি নয়, কিন্তু আমাদের মধ্যে ও-ই সেরা। যখন রান পায়, তখন তাকে না চাইলেও সবাই প্রশংসা করে। এখন সে খারাপ সময়ের মধ্যে আছে, তার পাশে দাঁড়ানো দরকার।’

বাবরের পারফরম্যান্স নিয়ে আরও কিছু যুক্তিও দিয়েছেন তিনি, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে তার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। মাত্র ২৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে উইকেট ছুঁড়ে দেওয়ার পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বিপরীতে, কোহলি খেলেছেন দুর্দান্ত এক ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। তবে বাটের যুক্তি, বাবরের চারপাশে ম্যাচ জেতানো ব্যাটার নেই বলেই তার ওপর এত চাপ পড়ে।

‘কোহলির ফর্মও একসময় পড়তির দিকে ছিল। কিন্তু তখনও ৫০ রান করত। কারণ ওর আশেপাশে ছিল রোহিত শর্মা, এমএস ধোনির মতো বড় ম্যাচ উইনাররা। কিন্তু বাবরের পাশে কে আছে?’ —  প্রশ্ন তুলেছেন সালমান বাট।

নিজেদের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এমন ভরাডুবির পর পাকিস্তান ক্রিকেট এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। দল, অধিনায়কত্ব আর কাঠামো — সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য।

Share via
Copy link