বাদশাহ বাবরের সেই চিরচেনা প্রতাপ

প্রথম দু'ম্যাচে স্ফুলিঙ্গ পায়নি মশালের মর্যাদা। বাবার আজম তাই তরবারীর আঘাতে চুরমার করলেন সকল অভিমান। পাকিস্তান দলকে শুনিয়ে দিলেন ফেরার গান।

বাদশাহ বাবরের প্রতাপের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে তিনি ফিরেছিলেন টি-টোয়েন্টি দলে। প্রথম দু’ম্যাচে স্ফুলিঙ্গ পায়নি মশালের মর্যাদা। বাবার আজম তাই তরবারীর আঘাতে চুরমার করলেন সকল অভিমান। পাকিস্তান দলকে শুনিয়ে দিলেন ফেরার গান।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ফিফটিতেও তিনি বেশ খানিকটা দূরত্ব রেখেই চলছেন। এমন একজন ব্যাটারকে স্রেফ স্ট্রাইকরেটের দোহাই দিয়ে ছেটে ফেলেছিল পাকিস্তান। যদিও অফফর্মের কালোহাতও সেই ছাটাইয়ের অন্যতম প্রভাবক।

তবে বাদশাহ হওয়ার রসদ যাদের ধমনীতে বহমান, তাদের কি আর আটকে রাখতে পারে অন্ধকারের কূটকৌশল! বাবরকেও পারেনি। তার অবর্তমানের দলের বেগতিক পরিস্থিতি বেজায় ভাবিয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচকদের। সেই ভাবনার ফলশ্রুতিতে বাবরকে তলব করেছেন, মনমালিন্য ভুলে দলের হয়ে খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন।

সেই বাবর দলের জন্যেই খেললেন বটে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনিই যে ছিলেন জয়ের পথপ্রদর্শক। রীতিমত একা হাতেই দলকে পরিচালিত করলেন জয়ের বন্দরের দিকে। ৪৭ বলে ৬৮ রানের বেশ কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে হতে দেননি কক্ষচ্যুত। ৯ চারে সাজানো ইনিংসটিতে ছিল না কোন অপ্রয়োজনীয় আক্রমণ। লক্ষ্য যে স্রেফ ১৪০!

বাবর জানেন এমন সব দিনেই পাকিস্তান তালগোল পাকিয়ে ফেলে। অতি উৎসাহে, লেজেগোবরে করে ম্যাচ হারে। বাদশাহ বাবর এবার অন্তত তা হতে দিলেন না। অধিনায়ক সালমান আলী আঘাকে সঙ্গে করে প্রয়োজন মাফিক ব্যাট চালিয়েছেন। তাতে করে কোন প্রকার শঙ্কা ছাড়াই ম্যাচ পাকিস্তান। বাবরের দৃঢ়তার গল্প এখানেও যে ধ্রুব চিত্র।

এর আগে শাহীন শাহ আফ্রিদির দুর্ধর্ষ প্রথম স্পেলেই বরং জয়ের সুবাতাস পেতে শুরু করেছিল পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৩৯ রানেই আটকে দেন আফ্রিদি, উসমান তারিক ও ফাহিম আশরাফরা। স্বল্প সংগ্রহে তাড়াহুড়ো করে আর কোন বিষাদ হয়নি পাকিস্তানের সঙ্গী। চার উইকেট ও এক ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। বাবর ছাড়াও আঘা সালমানের ব্যাট থেকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link