বাংলাদেশ ৫ – আফগানিস্তান ১০

তুলনা করলেই বোঝা যায়, আফগানিস্তান প্রতিদিন শিখছে, উন্নতি করছে, অর্জন করছেন। আর বাংলাদেশ দল শিক্ষাসফরের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। আর সেই প্রভাবটা পড়ছে আইসিসি ইভেন্টগুলোতে। বাংলাদেশ যায় বোঝা হয়ে, আফগানিস্তান আসে চোখ রাঙিয়ে কথা বলতে।

একসময় এশিয়ার ক্রিকেটে নতুন অতিথি ছিল আফগানিস্তান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিকাঠামো নেই, ঘরের মাঠ নেই— এসব বলে আফগানিস্তানকে সমবেদনা জানানো হতো। কিন্তু সময় বদলেছে, আফগানিস্তান এখন শক্তি। আর বাংলাদেশ? ২৫ বছর ধরে টেস্ট খেলেও যেন ব্যর্থতার একঘেয়ে চক্রেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

শেষ তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান দেখুন। আফগানিস্তান ১৯ ম্যাচ খেলে জিতেছে ১০ টি। বাংলাদেশ ১৮ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র ৫টি! আফগানিস্তানের সমান ম্যাচ খেলেও অর্ধেকও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এটা শুধুই পরিসংখ্যান নয়, এটা দুই দলের ক্রিকেট মানসিকতার পার্থক্য।

শেষ তিনটি আসরে ম্যাচ জয়ের সাফল্যের ভিত্তিতে আফগানদের অবস্থান চতুর্থ স্থানে। আগে আছে কেবল ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ ‍তৃতীয়, শেষ দিক থেকে। বাংলাদেশের পরে আছে কেবল শ্রীলঙ্কা আর নেদারল্যান্ডস।

আফগানরা জানে, তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট অতটা শক্তিশালী নয়। তাই তাদের খেলোয়াড়রা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে, আইপিএল-বিগ ব্যাশে খেলে, শিখে, অভিজ্ঞতা নেয়। রশিদ খান, গুরবাজ, নবীরা সেখানেই তৈরি হয়েছে। কোচিংয়ে জোনাথন ট্রটের মতো অভিজ্ঞ মস্তিষ্ক আছে, যারা জানে কীভাবে ম্যাচ শেষ করতে হয়।

আর বাংলাদেশ? এখনও সেই ‘ভালো খেলেও হেরে গেলাম’, ‘ভুলগুলো শুধরাতে হবে’ টাইপের অজুহাত দিয়েই দিন পার করছে। আইপিএল থেকে শেখার দরকার নেই— এমন ভাব দেখায়, অথচ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পেলেই ব্যর্থ হয়।

আসলে পার্থক্য এখানেই। আফগানিস্তান হার মানতে চায় না, তারা লড়াই করতে চায়। বাংলাদেশ ব্যর্থতা সঙ্গী করেই আরামসে পথ চলে। আর বাংলাদেশের প্রবাসী সমর্থকেরা? তারা খরচা করে খেলা দেখতে আসেন, সময়-টাকা দুটোই দেন, কিন্তু দল কি তাদের বিন্দুমাত্র সম্মান দিতে পারে?

তুলনা করলেই বোঝা যায়, আফগানিস্তান প্রতিদিন শিখছে, উন্নতি করছে, অর্জন করছেন। আর বাংলাদেশ দল শিক্ষাসফরের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। আর সেই প্রভাবটা পড়ছে আইসিসি ইভেন্টগুলোতে। বাংলাদেশ যায় বোঝা হয়ে, আফগানিস্তান আসে চোখ রাঙিয়ে কথা বলতে।

Share via
Copy link