লাল-সবুজের ওয়ানডে আখ্যান

১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাস যেন এক বহমান নদী। কখনো তা খরস্রোতা অর্জনের জোয়ারে ভেসেছে, কখনো আবার স্থবির হয়েছে ব্যর্থতার চরে।

​আশির দশকের মাঝামাঝি মোরাতুয়ার তপ্ত গরমে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, আজ চার দশক পেরিয়ে তা এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাস যেন এক বহমান নদী। কখনো তা খরস্রোতা অর্জনের জোয়ারে ভেসেছে, কখনো আবার স্থবির হয়েছে ব্যর্থতার চরে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণ ভোমরা মূলত এই ওয়ানডে ফরম্যাটই। ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন মালয়েশিয়ায় আকরাম খানের সেই অবিস্মরণীয় ইনিংস আর আইসিসি ট্রফি জয় ছিল আমাদের ক্রিকেটের প্রথম বসন্ত। সেই জয়ের হাত ধরেই ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া জয়। এডিনবার্গের সেই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় ছিল না, তা ছিল বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অস্তিত্বের জানান দেওয়া।

২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই তরুণ মাশরাফী-মুশফিক-তামিমদের দাপট ছিল আগামীর সংকেত।তবে প্রাপ্তির খাতা সবচেয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে গত এক দশকে। ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারিয়ে টাইগাররা প্রমাণ করেছে তারা এই ফরম্যাটের অন্যতম শক্তিশালী দল।

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখর। মাশরাফীর সেই ‘পঞ্চপাণ্ডব’ যুগে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ দল হয়ে উঠেছিল অদম্য। সাকিব আল হাসানের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়ে ওঠা, তামিমের ব্যাটে রানের ফোয়ারা কিংবা মুশফিকের নির্ভরযোগ্যতা – সবই এই চল্লিশ বছরের পরম প্রাপ্তি।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে বেদনার রঙও কম গাঢ় নয়। চার দশকের এই দীর্ঘ পথ চলায় এখনো একটি বড় ট্রফির শূন্যতা যেন হাহাকার হয়ে বাজে। তিনবার এশিয়া কাপের ফাইনালে গিয়েও তীরে এসে তরী ডোবানোর গল্পগুলো সমর্থকদের হৃদয়ে আজও ক্ষত তৈরি করে আছে।

যদিও পঞ্চপাণ্ডব পরবর্তী অধ্যায়ে সাম্প্রতিককালে ওয়ানডে ফরম্যাটে অনেকটাই বেগ পেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে আবারও নিজেদের এই ফরম্যাটটিকে আপন করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে টাইগররা।

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাস কেবল পরিসংখ্যানের সমষ্টি নয়, এটি ১৬ কোটি মানুষের আবেগ, কান্না আর বুক চেরা উল্লাসের আখ্যান। মোরাতুয়ার সেই চারাগাছটি আজ বটবৃক্ষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর পূর্ণ বিকশিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি বৈশ্বিক শিরোপা। চল্লিশ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় হয়তো প্রাপ্তি অনেক, কিন্তু সেই ‘সোনার হরিণ’ পাওয়ার তৃষ্ণা আজও মিটেনি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link