আপনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে বসেছেন, তবে বিগত ছয় মাস স্কুলে কোনো ক্লাস হয়নি। এমনকি টেস্ট পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই আপনার পড়ার গতি কমেছে, সুযোগ মেলেনি শেষবারের মতো নিজেকে যাচাই করার। অনেকটা এমন ঘটনাই ঘটেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাথে।
এশিয়া কাপের মহারণ, বিসিবি নির্বাচনের উত্তাপ— এসবের মাঝে অনেকটা নীরবেই দেশ ছেড়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। সেই সাথে সঙ্গী হয়েছে আক্ষেপ আর অপ্রাপ্তির ভার। তবে সব ছাপিয়ে প্রশ্ন একটাই, কতটুকু প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা?
বাংলাদেশ সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখ। অর্থাৎ মাঝে পেরিয়ে গেছে পাঁচ মাস। পাঁচ মাস আগের সেই ম্যাচটাতেও আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হয়েই হেরেছিল দল। এরপর আর মাঠে নামার মতো কোনো প্রতিপক্ষ খুঁজে পায়নি নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।

অবশ্য মাঠে নামেননি এমনটাও নয়। বিসিবি আলাদাভাবে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সাথে নারী দলের মধ্যেকার ম্যাচ আয়োজন করেছিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি উপলক্ষে। কার্যত আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে ব্যর্থ হয়েই এমন পন্থায় হেটেছিলেন তারা।
বিসিবি না পারলেও অন্যান্য দেশ ঠিকই নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে। পাশের দেশ ভারত খেলছে অস্ট্রেলিয়া নারীদের বিপক্ষে, দক্ষিণ আফ্রিকা নারীদের বিপক্ষে খেলছে পাকিস্তান।
আর বাংলাদেশ সেখানে প্রস্তুতি সেরেছে নিজ দেশে ক্যাম্প করে। শেষটাতে শ্রীলঙ্কা এবং সাউথ আফ্রিকার সাথে গা গরমের দুটো ম্যাচই শেষ ভরসা।

এ নিয়ে দেশ ছাড়ার আগে আক্ষেপ ঝরেছে অধিনায়ক জ্যোতির কণ্ঠেও, তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা আইডিয়াল হয়নি। তবে বাংলাদেশে যত ধরনের সুযোগ ছিল, আমরা তা নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
বড় আসর খেলার আগে শতভাগ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে দলগুলো। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, পাকিস্তান— সবাই নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে ব্যস্ত সূচির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটছে কেবলই আত্মবিশ্বাস জোগানোর বুলি। এরপরই নিশ্চয় আহামরি ফলাফল আশা করাটা বোকামি।











