ওপেনার ইস্যুতে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০২৫ সালে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন জুটিতে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছে বাংলাদেশ। তাতে, কোনোবারই কোনো লাভ আদায় করতে পারেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
এই পরিসংখ্যান আরও বিভৎস, যখন জানা যাবে – এই বছর বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র নয়টি ওয়ানডে, আর সেখানে প্রথম আটটির মধ্যে হেরেছে সাতটিতেই। এই সময়ে ছয়টি ভিন্ন ওপেনিং জুটিতে খেলেছেন ছয়জন ওপেনার।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি ৪৫ রানের, সেখানেও আবার ছিল না নিয়মিত ওপেনিং জুটি – তানজিদ হাসান তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন তখনকার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ওপেনার হিসেবে সেদিনই এই বছরে বাংলাদেশের সেরা ইনিংসটা খেলেন শান্ত। করেন ৭৭ রান।
নয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে জুটিতে বাংলাদেশ রান তুলতে পেরেছে মাত্র ১৬৫ রান, মানে গড় ১৮.৩৩। এর অর্থ হল, বারবার ওপেনিং জুটি ভেঙেও কোনো ফায়দা হচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুরুতে ওপেনিংয়ে যথারীতি নতুন মুখ আসলেন।

সাইফ হাসানের সাথে ওপেন করতে নামলেন সৌম্য সরকার। সৌম্য সর্বশেষ গেল ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে খেলেছিলেন। যথারীতি ব্যর্থ হলেন দু’জনই। ওপেনিং থেকে আসল মাত্র আট রান। সাইফের ব্যাটে তিন রান, সৌম্যর ব্যাটে চার রান – ওপেনারদের ব্যাটে রান ক্ষরা দীর্ঘ হল।
সবচেয়ে বেশি ওপেন করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। সাতবার সুযোগ পেয়ে তিনি রান তুলেছেন মাত্র ২০.৭১ স্ট্রাইক রেটে। একাধিক ইনিংস ওপেনার হিসেবে খেলেছেন, এমন ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল গড় পারভেজ হোসেন ইমনের – ৩৬, অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজের ওয়ানডে স্কোয়াডে জায়গাই হয়নি তাঁর। টি-টোয়েন্টির ব্যর্থতার জের ধরে তাঁকে ওয়ানডে থেকেও বাদ দেওয়া হয়।

বোঝা যাচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজেই আবারও উদ্বোধনী জুটি ভাঙবে বাংলাদেশ। এমনকি স্কোয়াডের বাইরে থেকেও কাউকে এনে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে, পরিকল্পনাহীন ভাবে ওপেনারদের এত শাফল করার হলে তাতে ইতিবাচক কিছু হবে কি না – বলা মুশকিল।










