বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান, পেস শক্তিতে কোন দল এগিয়ে?

খাতা-কলমের বিচারে কিছুটা খর্বশক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। অনেকটা আনকোরা ক্রিকেটারদের আধিক্যটাই একটু বেশি। তবে দুই দলের পেস ইউনিট আসলে কেমন? এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে কোন দল, চলুন একটু কাটাছেঁড়া করা যাক।

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই এ বছর আন্তর্জাতিক মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। দুই দলের লড়াই নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম ক্রিকেটপাড়া। খাতা-কলমের বিচারে কিছুটা খর্বশক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। অনেকটা আনকোরা ক্রিকেটারদের আধিক্যটাই একটু বেশি। তবে দুই দলের পেস ইউনিট আসলে কেমন? এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে কোন দল, চলুন একটু কাটাছেঁড়া করা যাক।

পাকিস্তানের স্কোয়াডের দিকে তাকালে এই সফরে চারজন পেসার রয়েছেন। মূলত নেতার ভূমিকায় শাহীন শাহ আফ্রিদি। বাকিরা হারিস রউফ, ফাহিম আশরাফ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম। নিজেদের দিনে জ্বলে উঠতে পারলে এই পাকিস্তানি পেস আক্রমণ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম যেকোনো প্রতিপক্ষকে।

তবে সাম্প্রতিক হিসাবটা কি তাঁদের পক্ষে আছে? ম্যাচ সংখ্যার বিচারে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা শাহীন আফ্রিদি। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৭১ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০২৫ সাল জুড়ে ১২টি ওয়ানডে খেলে নিজের ঝুলিতে পুরেছেন মোটে ১৬ উইকেট। গড় ৪০-এর কাছাকাছি। নামের বিচারে খুব একটা শোভনীয় নয় তার জন্য। আগের মতো ভয় ধরানোর ক্ষমতাও কমেছে।

হারিস রউফ যথারীতি দলের উইকেটটেকার। গতি-বাউন্সে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই তাঁর কাজ। ফাহিম আশরাফও যেকোনো দিনে দারুণ কার্যকর। বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং, ভ্যারিয়েশনে ব্যাটারকে দ্বিধায় ফেলতে পারেন তিনি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলার সুবাদে মিরপুরের উইকেট তার নখদর্পণে। আর মোহাম্মদ ওয়াসিম যথারীতি থাকবেন ব্যাকআপ তালিকায়।

এক হারিস রউফ বাদে খুব একটা আশানুরূপ পারফরম্যান্স গেল বছর কেউ দেখাতে পারেননি। নয় ম্যাচে গত বছর ১৫ উইকেট শিকার করেছেন রউফ। বাংলাদেশের ভয়ের কারণ তিনিই হতে পারেন।

এবার একটু বাংলাদেশের হিসাবে আসা যাক। দলে চার প্রিমিয়াম পেসার রয়েছেন। নেতার ভূমিকায় মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁকে সঙ্গ দেবেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম আর নাহিদ রানা।

মুস্তাফিজকে নিয়ে বলার কিছুই নেই। কাটার, স্লোয়ারে ব্যাটারকে ঘোল খাওয়ানো কিংবা ডেথ ওভারের কারসাজি—মুস্তাফিজ এক কথায় অনন্য। যদিও গত বছরে উইকেট তোলার বিচারে মুস্তাফিজের ম্যাজিক কিছুটা মলিন ছিল। নয় ম্যাচে ঝুলিতে পুরেছিলেন মাত্র পাঁচ উইকেট, তবে ইকোনমি নিজের স্বভাবজাতই ছিল। যেটা একপ্রান্তে চাপ সৃষ্টি করে গেছে। তবে এবার খেলাটা যেহেতু মিরপুরে, সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজের পরিসংখ্যানের হিসাব-নিকাশ নস্যি।

সেই সাথে তাসকিন আহমেদের সিম মুভমেন্ট, শরিফুল ইসলামের আগ্রাসন আর হারিস রউফের গতির বদলা নেওয়ার জন্য নাহিদ রানা তো আছেনই।

এবার আসা যাক কোন দলের পেস ইউনিট বেশি এগিয়ে। অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে পাকিস্তান পুরো ইউনিটের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ১৯২টি। অন্যদিকে বাংলাদেশের সংখ্যাটা ২৪৪। অভিজ্ঞতার হিসাব টানলে বাংলাদেশ যোজন যোজন এগিয়ে।

ইমপ্যাক্ট, কন্ডিশন কিংবা ভারসাম্যের বিচারে বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপটা বেশ কম্প্যাক্ট। গতি যেমন আছে, ভ্যারিয়েশনের প্রশ্নেও তেমনই আপোষহীন। আর পুরোপুরি পার্থক্য গড়ে দিতে তো মোস্তাফিজ থাকছেনই। এখন দেখার মাঠের খেলায় আসলে কতটুকু পার্থক্য গড়তে পারে দুই দল।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link