ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে আদৌ বন্ধু ভাবতে পারছে না বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ড পারলে বাংলাদেশ কেন নয়? মাত্র পাঁচ-ছয়জন শীর্ষ ক্রিকেটার ছাড়া কেন ঘরের মাটির পরিচিত কন্ডিশনেও খেলতে নামতে চায় না বাংলাদেশ?

নিউজিল্যান্ড পারলে বাংলাদেশ কেন নয়? মাত্র পাঁচ-ছয়জন শীর্ষ ক্রিকেটার ছাড়া কেন ঘরের মাটির পরিচিত কন্ডিশনেও খেলতে নামতে চায় না বাংলাদেশ?

দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড। তারকারা ব্যস্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে। তাই তো বেঞ্চ শক্তিকে পরখ করার সুযোগটা হাতছাড়া করতে নারাজ কিউইরা। তবে বাংলাদেশের কি এই সৎ সাহসটা আছে?

পাকিস্তান সুপার লিগে বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটার খেলছেন। তবে এর মাঝেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ হওয়ায় ফিরে আসতে হবে তাদের। নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় সারির দল হলেও পূর্ণ শক্তির মন্ত্রেই বিশ্বাস রাখতে যায় বাংলাদেশ।

যেহেতু নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় সারির একটা দল নিয়ে বাংলাদেশে আসবে, সেক্ষেত্রে প্রশ্ন জেগেছিল, পিএসএলে যারা আছেন তারা কি পুরো সময়ের জন্যই এনওসি পাবেন? খেলা ৭১ থেকে উত্তর জানতে চাওয়া হয় বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে। তিনি বলেন, ‘যারা হোয়াইট বল ক্রিকেট খেলবেন তারা চলে আসবেন।’

তবে সবাই একসাথে আসছে না, ধাপে ধাপেই দলের সাথে যোগ দেবেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যারা ওয়ানডে খেলবেন তারা সবাই চলে আসবেন আগে, বাকিরা পরের ধাপে আসবেন।’ এমনকি মুস্তাফিজও পাচ্ছেন না পুরো আসরের ছাড়পত্র। ২৬ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ধাপে দেওয়া হয়েছে এনওসি। ওয়ানডে শেষ করে ২৪ এপ্রিল আবারও পিএসএলে ফিরবেন তিনি।

তবে বাকিদের এই সৌভাগ্য হচ্ছে না। এক পারভেজ হোসেন ইমন ব্যতীত সবাই ফিরবেন ১২ তারিখেই। ওয়ানডে দলে না থাকায় ইমনের মেয়াদ ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি, পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ।

তবে এখানেই একই প্রশ্ন বারবার সামনে আসে। নিউজিল্যান্ড পারলেও ঘরের মাঠে বাংলাদেশ কেন বেঞ্চশক্তি পরখ করে দেখতে চায় না? এক্ষেত্রে ওয়ানডেতে যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে চায়, এখানে কোনো পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। এই পর্যন্ত মেনে নেওয়া যায়। তবে টি-টোয়েন্টি? সেখানে কেন তানজিদ তামিম, ইমন, শরিফুলদের লাগবেই?

বিকল্প নেই, বাংলাদেশের ক্রিকেটের চিরন্তন এক বাণী। তবে বিকল্প কি আসলেই নেই, নাকি তৈরি করা হয় না? দ্বিতীয় সারির একটা দলের সাথে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি খেলতে সেরা তারকাদের ছাড় দিলে কি এমন ক্ষতি হয়? এখানে সৌম্য, মোসাদ্দেক, আকবর, আলিসদের নিয়েও তো মোকাবিলা করা যায়। জাতীয় দলের দরজায় যারা কড়া নাড়ছেন তাদের জন্য তো দরজা খুলে দেওয়া যায়। তবে এসব নিয়ে মাথাব্যথা তো নেই কারো!

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link