জেতা ম্যাচ হেলায় হারাল বাংলাদেশ!

১২ বলে দরকার ১২ রান, হাতে তখনও ছয় উইকেট। সেখান থেকে সাত রানের হার। ১২ বলে উইকেট গেল পাঁচটা। শেষ ওভারেই এর মধ্যে চারটা। ব্যস, এখানেই স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিল বাংলাদেশের মেয়েরা। একটা জেতা ম্যাচ হেলায় হারাল নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।

১২ বলে দরকার ১২ রান, হাতে তখনও ছয় উইকেট। সেখান থেকে সাত রানের হার। ১২ বলে উইকেট গেল পাঁচটা। শেষ ওভারেই এর মধ্যে চারটা। ব্যস, এখানেই স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিল বাংলাদেশের মেয়েরা। একটা জেতা ম্যাচ হেলায় হারাল নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।

২০৩ রান চেজ করে জেতাটা বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য মোটেও সহজ ব্যাপার ছিল না। সেটা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় যখন রাবেয়া হায়দার ঝিলিক ফিরে যান শূন্য রানেই। ফারজানা হকও ব্যর্থতার শেকল ভেঙে বের হতে পারেননি। ৪৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের সম্ভাবনার আলো তখনই নিভতে বসেছে।

তবে নিভতে বসা আলোর তেজ আবারও জ্বালিয়ে দেন নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং শারমিন আক্তার। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ৮২ রান। ৬৪ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন শারমিন। জ্যোতির লড়াইটা অবশ্য চলতে থাকে এক প্রান্তে। যার জেরে বাংলাদেশের জয় এসে দাঁড়ায় হাতছোঁয়া দূরত্বে।

১২ বলে ১২ রান। উইকেটে তখনও আছেন ৭৬ রান করা জ্যোতি। এমন ম্যাচ যে এভাবে হারা যায়, সেটা বোধহয় দুঃস্বপ্নেই দেখা যায়। বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর অনভিজ্ঞতায় শেষমেশ ব্যবধান গড়ে দিল।

শেষ ওভারে লাগত নয় রান। তখনও যে সম্ভাবনার সব রসদই ছিল। তবে সম্ভাবনা আর বাস্তবতার বিস্তর ফারাক বুঝিয়ে দিলেন জ্যোতিরা। শেষ ওভারের প্রথম চার বলেই চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচটাই হাতছাড়া করল বাংলার মেয়েরা। শ্রীলঙ্কা জয় পায় সাত রানের ব্যবধানে।

এদিন অবশ্য টসে জিতে শ্রীলঙ্কা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্যাটিং করার। তবে শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় তাদের। মারুফা আক্তারের ট্রেডমার্ক ইনসুইং বুঝে উঠতে না পেরে ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরতে হয় বিশমি গুনারত্নেকে। পরবর্তীতে অবশ্য সেই চাপ সামলে ওঠে লঙ্কানরা। হাসিনি পেরেরার ৮৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংসের ভর করে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০২।

বাংলাদেশ হারে স্রেফ চাপের কাছে। একে তো বিশ্বকাপের মঞ্চ, তার উপর বাঁচা-মরার লড়াই—এই চাপের ভার জ্যোতিরা বইতে পারেননি আর। সেমির শেষ সম্ভাবনা তাই একেবারেই শেষ করে দিয়ে এল বাংলাদেশ।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link