এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্পিন ধাঁধা

শেখ মেহেদীর অভিজ্ঞতা, রিশাদের লেগস্পিন আর নাসুমের বাঁহাতি বোলিংয়ের বৈচিত্র—সব মিলিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে  স্পিনাররা সবসময়ই ভরসার নাম। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি—বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ নজরে থাকেন সব সময়, প্রতিপক্ষের মাথা ব্যাথার কারণ হন। এবারের এশিয়া কাপেও তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন স্পিনাররা।

শেখ মেহেদী হাসান আছেন অফস্পিন নিয়ে, বাঁহাতি স্পিনে নাসুম আহমেদ, আর নতুন ধারার অস্ত্র লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। সাথে পার্ট-টাইম বিকল্প হিসেবে সাইফ হাসান কিংবা শামিম হোসেন পাটোয়ারিও আছেন। বৈচিত্র্যের দিক থেকে এটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ স্পিন আক্রমণ বলা যায়।

শেখ মেহেদীকে এখানে অটো-চয়েজ ধরা যেতে পারে। কিন্তু, প্রশ্ন একটাই—রিশাদ নাকি নাসুম? মূল একাদশে জায়গা হবে কার। প্রথম ম্যাচ যেহেতু হংকংয়ের বিপক্ষে, ফলে পাল্লা ভারি হবে রিশাদের। শুষ্ক আবুধাবির উইকেটে, লেগস্পিনারের প্রভাব অনেক বেশি। আর রিশাদ সেখানেই এগিয়ে। নাসুম হোম কন্ডিশনে বেশি কার্যকর।

খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে রিশাদের জুড়ি নেই। একটি ওভারে বা এক স্পেলেই দুই-তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সেই ক্ষমতা লেগস্পিনারদের হাতে থাকে, আর সেটা রিশাদ আগেও দেখিয়েছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফর্মার।

বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে রয়েছে। নাসুমকে সম্ভবত প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। সাম্প্রতিক ফর্ম তাঁর দুর্দান্ত। তবে, তাঁকে এই মুহূর্তে রিশাদের প্রথম ও প্রধান বিকল্পই বলা যায়।

শেখ মেহেদীর অভিজ্ঞতা, রিশাদের লেগস্পিন আর নাসুমের বাঁহাতি বোলিংয়ের বৈচিত্র—সব মিলিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। স্পিনারদের মধ্যে অভ্যন্তরীন একটা প্রতিযোগীতা আছে। সেটা এই মুহূর্তে দলের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর। আর সেই রাস্তা ধরেই বাংলাদেশ হয়তো খুঁজবে শিরোপার স্বপ্ন।

Share via
Copy link