ধুমকেতু একাদশ, যে একাদশের ১৩ জন ক্রিকেটারের খেলার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নামের সাথে এমন সামঞ্জস্য সম্ভবত আর হতে পারে না। ধুমকেতুর মতই কালেভদ্রে এমন বিশ্বকাপ না খেলার মত ঘটনা ঘটে। যার বলি হতে হল ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অবশ্য সান্ত্বনা পুরষ্কারের জন্যই তিন দলীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।
তিনটি দল ইতোমধ্যেই বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। যেখানে, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৫ সদস্যদের মধ্যে ১৩জন রয়েছেন ধুমকেতু একাদশে। নুরুল হাসান সোহান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশে। এছাড়া আকবার আলীর নেতৃত্বে একেবারে তরুণ সদস্যদের নিয়ে সাজানো হয়েছে দুরন্ত স্কোয়াড।
দুর্বার স্কোয়াড সত্যিকার অর্থেই দুর্বার হবে কি-না সেটা অবশ্য সময় বলে দেবে। তবে আকবরের তরুণ দলটার জন্য দুরন্ত নামটাও কিন্তু মন্দ নয়। জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও হাই পারফরমেন্স ইউনিটে থাকা খেলোয়াড়দের সমন্বয়েই গড়া হয়েছে এই তিন দল। যেখানে প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।

জিসান আলম, হাবিবুর রহমান সোহানরা খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সাথে সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আল ফাহাদ, ইকবাল হোসেন ইমন, আজিজুল হাকিম তামিম, জাওয়াদ আবরাররাও খেলতে চলেছে এই টুর্নামেন্ট। আল ফাহাদ আছেন শান্তর দুর্বার একাদশে। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট খেলে আদোতে ফায়দা কি?
খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। সদস্যই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শেষ হয়েছে- খেলোয়াড়রা ছিলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানসিক বলয়ে। অথচ, বলা হয়েছিল ওয়ানডে ফরম্যাটে একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল বিসিবি। সেটাই বরং হতে পারত ফলপ্রসূ।
এবারের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। পরবর্তী একাদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুত করবার জন্য প্রায় দেড় বছরের উপরে সময় পাবে দল। কিন্তু ২০২৭ সালেই তো বসতে চলেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বা দলের খেলোয়াড় গঠনের জন্য এই সুযোগটা চাইলেই কাজে লাগাতে পারত বিসিবি।

ওয়ানডেতে বাংলাদশের সাম্প্রতিক ফর্ম যে মোটেও সুখকর নয়। ২০২৫ সালে ১১ খানা ওয়ানডে ম্যাচ খেলে স্রেফ তিন খানা জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ওয়ানডে ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে খেলে মাত্র দুইটি ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ।
অতএব ওয়ানডেতে পারফরমেন্সের গ্রাফ ক্রমশ নিম্নগামী। সেদিক বিবেচনায় পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে, দলও গোছানোর কাজটা এখান থেকেই শুরু করতে পারত বিসিবি। কিন্তু সে পথে না হেঁটে তারা স্রেফ দায়সারা এক আয়োজনে খেলোয়াড়দের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বৈকি। সাময়িক এসব পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হয় না, এ যেন স্রেফ বিভ্রম সৃষ্টি করার খেলা।











