বুলবুলের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক স্থবিরতা

পরিবার আর পেশার টানাপোড়েনে মানুষের জীবন দ্বিমুখী স্রোতে ভাসে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘকাল আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে কর্মরত থাকায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিই এখন তার ও তার পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা। পবিত্র রমজান মাসটা তিনি প্রিয়জনদের সাথে অতিবাহিত করতে চাওয়া তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার, সেখানে প্রশ্ন তোলার অবকাশ সামান্যই।

পরিবার আর পেশার টানাপোড়েনে মানুষের জীবন দ্বিমুখী স্রোতে ভাসে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘকাল আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে কর্মরত থাকায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিই এখন তাঁর পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা। পবিত্র রমজান মাসটা প্রিয়জনদের সাথে অতিবাহিত করতে চাওয়াটা তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার, সেখানে প্রশ্ন তোলার অবকাশ সামান্যই।

তবে প্রশ্নটা উঠছে ব্যক্তি বুলবুলকে নিয়ে নয়, বরং বিসিবি সভাপতি বুলবুলের প্রশাসনিক শূন্যতা নিয়ে। দেশের সবচেয়ে সুবিশাল এই ক্রীড়া সংস্থার চাকা সচল রাখার যে চেইন অব কমান্ড, তা যেন বর্তমানে কিছুটা পথ হারিয়েছে।

একটি বৃহদাকার বোর্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকে। বোর্ড প্রধান যখন অনুপস্থিত থাকেন, তখন তাঁর দৈনন্দিন তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার কার কাঁধে বর্তাবে, তা আগেভাগেই স্পষ্ট করার রীতি রয়েছে। বিসিবিতে ফারুক আহমেদ ও শাহাদাত হোসেনের মতো দুজন অভিজ্ঞ সহ-সভাপতি থাকা সত্ত্বেও, বুলবুলের প্রবাস যাত্রার আগে কাউকে সুনির্দিষ্ট কোন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

অভিভাবকহীন তরী যেমন দিক হারায়, বিসিবির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও যেন সেই পথেই হাঁটছে। সভাপতির অনুপস্থিতির সুযোগে কিছু কর্মকর্তার বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে খোদ বিসিবিই সমালোচনার মুখে পড়েছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছে, বোর্ডে নজরদারি করার মতো কেউ নেই। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরণের ‘যে যার মতো চলো’ মানসিকতা তৈরি হয়েছে, যা বিসিবির মতো একটি সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

এই অস্থিরতা কাটাতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতেন। তিনি যদি যাওয়ার আগে প্রধান নির্বাহী এবং দুই সহ-সভাপতির কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করে দিয়ে যেতেন, তবে হয়ত আজকের এই অচলাবস্থা তৈরি হত না।

পরিবারকে সময় দেওয়া যেমন তাঁর ব্যাক্তিগত অধিকার, ঠিক তেমনই বিসিবির গতিধারা সচল রাখাটাও বুলবুলের কর্তব্য। বোর্ড সভাপতি হয়ত প্রশান্ত মহাসাগরের ওপাড়ে পারিবারিক প্রশান্তিতে সময় কাটাচ্ছেন, যা মানবিক বিচারে অকাট্য। কিন্তু রাজধানীর মিরপুরে বিসিবির করিডোরগুলো আজ এক অদৃশ্য অভিভাবকহীনতার দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আছে।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link