নানা জলঘোলার পর অবশেষে ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিতর্কিত বোর্ড পরিচালক নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বোর্ডের সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে। খেলোয়াড়দের সব ধরণের ক্রিকেট বয়কটের পর মিটিংয়ে বসে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ। সেখান থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হলেও, মূল দাবি ছিল নাজমুলের পদত্যাগ।
তার পদত্যাগের দাবিতে এদিন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দিনের প্রথম খেলা বর্জন করেছিলেন ক্রিকেটাররা। চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যকার ম্যাচটি শেষ অবধি খেলোয়াড়দের আন্দোলনের মুখে মাঠেই গড়ায়নি। অন্যদিকে সকাল থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শকদের ভীড় বাড়তে থাকে।

ম্যাচ আয়োজনের সমস্ত কার্যাদি সম্পাদন করে অপেক্ষায় বসেছিল টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটি। এমনকি বোর্ড প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলও সেন্টার উইকেটের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থেকেছেন ম্যাচ মাঠে গড়ানোর। কিন্তু মন গলেনি ক্রিকেটারদের। অবশেষে বেলা ৩ টা নাগাদ সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান অনড় জানানোর পর বিসিবি নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি বিসিবি প্রাঙ্গনে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন বোর্ড পরিচালক নাজমুল। বিশ্বকাপে খেলতে না গেলে খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি বিসিবি পুষিয়ে দিবে কি-না, এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’

এমন মানহানীকর মন্তব্যের জেরে গতকাল রাতেই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তবুও দ্রুততম সময়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে বরং সময় চাওয়া হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। এর আগে তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নাজমুল ইসলাম। তখনও খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।











