আইসিসি যেন বিসিসিআইয়ের অন্য একটি শাখা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় শক্তি ও অর্থ যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবি। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া শুধু ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় শক্তি ও অর্থ যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবি। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া শুধু ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই দাবিকে যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বাদ দিয়ে দেয়।

অথচ ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের ম্যাচ দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি টুর্নামেন্টের ফাইনালও আয়োজক দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। অথচ বাংলাদেশের সহ-আয়োজক দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামো এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যেখানে বিসিসিআই কার্যত কেন্দ্রীয় শক্তি। বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাব আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেই প্রেক্ষিতেই বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, যিনি আগে বিসিসিআইয়ের প্রধান ছিলেন। আবার তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে, যা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক।

আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে ভারতীয় ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই। এই অর্থনৈতিক প্রভাবের ফলেই আইসিসি যেন ধীরে ধীরে বিসিসিআইয়ের হাতের পুতুলে পরিণত হচ্ছে।

যেখানে ক্রিকেট বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থার দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে পরিচালনা করা, সেখানে আইসিসির এমন দ্বিচারিতা ক্রিকেটের ভবিষ্যতকেই হুমকির মুখে ফেলছে। কেবল ভারতের হাতেই ক্রিকেটীয় ক্ষমতা পুঞ্জিভূত হতে থাকলে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন যেমন ঘটবে না, তেমনই বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেটের যেই আবহ বর্তমানে রয়েছে তাও ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করবে।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link