পারল না বাংলাদেশ। দশ জনের হংকংয়ের বিপক্ষেও জয়ের তিন পয়েন্ট পাওয়া হল না হামজা চৌধুরিদের। আবারও সেই খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ভুলই কাল হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের জন্য। হংকংয়ের ঘরের মাঠ থেকে একটি পয়েন্ট নিয়ে ফেরত আসতে পারাই যেন বাংলাদেশের একমাত্র সান্ত্বনা।
এএফসি এশিয়ান কাপের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সকল আশা বাঁচিয়ে রাখতে, হংকং, চায়নার বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে ম্যাচটি জিততেই হতো বাংলাদেশকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে, কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরার মাঠে নামলেন ৫-৩-২ ফরমেশনে। পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কার। প্রথমার্ধে কোনভাবেই গোল হজম করতে চায়নি বাংলাদেশ।
আগের দিনের তুলনায় এদিন রক্ষণ বেশ সলিড ছিল বটে। হংকং সেই অর্থে সুবিধা করতে পারেনি অ্যাটাকিং থার্ডে। তবে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের ৩০ মিনিট পাওয়ার পর ভুল করে বসেন তারিক কাজি। বল রিসিভ করে খানিকটা পিছলে যান তিনি। সেই সাথে পিছলে যায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও।

সেই বল আবার নিজের দখলে নিতে গিয়ে ভুল করেন তারিক। ডি-বক্সের ভেতরে ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি থেকে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি হংকংয়ের স্ট্রাইকার ম্যাট অর। মিতুল মারমাকে বিপরীত দিকে ঠেলে দিয়ে, ডান সাইড দিয়ে বল জালে জড়ান ম্যাট অর।
সেই ১-০ গোল ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬০ মিনিট অবধি নিজেদের ডি-বক্স থেকে বল প্লে করে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই একাদশে বদল আনেন ক্যাবরেরা। সোহেল রানা, জায়ান আহমেদের তুলে নিয়ে মাঠে নামান ফাহমিদুল ইসলাম ও জামাল ভুঁইয়াকে।
এরপর আক্রমণের ধার বাড়ে বাংলাদেশের। নিজেদের অর্ধ ছেড়ে প্রতিপক্ষের অর্ধেই বিচরণ করতে থাকেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। হংকং ১-০ গোলের লিডকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় আঁটসাঁট করে ফেলে তাদের রক্ষণ। গ্রাউন্ড প্লে থেকে কোন ফাঁকফোকর খুঁজে না পেয়ে, একের পর এক ক্রস ডি-বক্সে ফেলতে শুরু করেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

কিন্তু একজন জাত স্ট্রাইকারের অভাবে একটি ক্রসও কাজে আসেনি ম্যাচের ৮৪ মিনিট অবধি। তবে ৮৪ মিনিটে দারুণ টিম কম্বিনেশনে গোলর রুদ্ধদ্বার ভেঙে ফেলে বাংলাদেশ। বক্সের বাম পাশ থেকে ক্রস বাড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে না ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। ফার পোস্টে থাকা ফাহমিদুল দারুণ হেডে বলকে ঠেলে দেন রাকিব হোসেনের পায়ের সামনে। ডান-পায়ের শটে গোল করেন রাকিব। বাংলাদেশ ফেরে ১-১ গোলের সমতায়।
এর আগেই অবশ্য হংকং পরিণত হয়েছিল দশ জনের দলে। সামিত সোমকে পেছন থেকে ফাউল করায়, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন হংকংয়ের ডিফেন্ডার অলিভার গারবিগ। দশ জনের দলের উপর আরও বেশি চড়াও হয় বাংলাদেশ দল। তাতে করে সমতায় ফেরা গেলেও, জয় আর পাওয়া হয়ে ওঠেনি জামাল ভুঁইয়াদের।
এতে করে পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচেই রয়েছে বাংলাদেশ। দুই পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার সকল সমীকরণের সমাপ্তি। দুই ম্যাচ বাকি থাকলেও, হংকংয়ের বিপক্ষে হেড টু হেডে পিছিয়ে যাওয়ায়, বাংলাদেশের স্বপ্ন হয়েছে ধূলিসাৎ। ঘরের মাঠে ৩-৩ গোলের সমতায় থেকেও হেরে যাওয়া ম্যাচটাই বরং বাংলাদেশের আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।












