গোড়াতেই ছিল টাইগারদের যত গলদ

এশিয়া কাপের পরবর্তী রাউন্ডে যদি পৌঁছে যায় বাংলাদেশ- তবে তাদেরকে ফের ভাবতে হবে নিজেদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। নতুবা এমন ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হবে আরও বড় পরিসরে। 

বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ জিতেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু তবুও কি দল সমালোচনার উর্ধ্বে? মোটেও না। ম্যাচের একাবারে শুরুতেই বাংলাদেশ দল করেছে এক বিশাল বড় ভুল। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কখনোই পার্টটাইমার একটা দলের পঞ্চম বোলিং অপশন হতে পারে না। অথচ বাংলাদেশ, নিজেদের একাদশে সেই লুপহোল রেখেই শুরু করেছিল ম্যাচ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত। এক ম্যাচের মধ্যে একাদশের চারজন বদলে ফেলা মানে পরিকল্পনায় বিশাল বদল আনা। তবে সে সাহসী কাজ করতে গিয়ে মস্ত বড় বোকামি করেছে বাংলাদেশ। পঞ্চম বোলার হিসেবে দুই জন পার্টটাইমারের উপর আস্থা রেখেছিল লিটন দাস ও তার দল।

ভাগ্য ভাল, সে সিদ্ধান্তের খেসারত অন্তত ম্যাচ হেরে দিতে হয়নি। শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাইফ হাসান মিলে করেছেন ৪ ওভার। ওই ৪ ওভারকেই টার্গেট করেছিলেন আফগান ব্যাটাররা। ফলশ্রুতিতে তাদের সেই চার ওভারে ৫৪ রান। এর মধ্যে সাইফ হাসান তিন ওভারে দিয়েছেন ৩৯। আর শামীমের খরচা এক ওভারে ১৬ রান।

দুইজনে মিলে নিতে পারেননি কোন প্রকার উইকেট। একটা ম্যাচ হেরে যাওয়ার জন্যে এই বোলিং ফিগার ছিল যথেষ্ট। তবে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছেন মূলত নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান। এই তিনজনের সম্মিলিত ১২ ওভারে আফগানরা নিতে পেরেছে মোটে ৬৫ রান। উইকেটও নিয়েছেন সাতটি। ব্যবধান ঠিক কতটুকু তা নিশ্চয়ই বর্ণানার প্রয়োজন পড়ছে না।

স্রেফ বাড়তি ব্যাটার খেলানোর জন্যে একজন বোলারের আত্মাহুতি দিয়েছে। তেমন ভাবনা থেকে চাইলেই তানজিম হাসান সাকিবকে খেলানো যেত। তাতে করে সাইফ কিংবা শামীমের যেকোন একজনকে ষষ্ঠ বোলিং অপশন হিসেবে ব্যবহার করা যেত। এই জয় বাংলাদেশকে এক ঠুনকো আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, চার বোলার নিয়ে খেলতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। কিন্তু তা হতে পারে বুমেরাং।

একজন পার্টটাইমার কখনোই দলের পঞ্চম বোলারের ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। আর এমন পরিকল্পনা যদিওবা থেকে থাকে তবে সে জায়গাটা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন পেতে পারেন। শামীম-সাইফদের তুলনায় বল হাতে সাইফউদ্দিন তুলনামূলক পরীক্ষিত। অতএব এশিয়া কাপের পরবর্তী রাউন্ডে যদি পৌঁছে যায় বাংলাদেশ- তবে তাদেরকে ফের ভাবতে হবে নিজেদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। নতুবা এমন ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হবে আরও বড় পরিসরে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link