ম্যাচ প্রতি সাতটি ছক্কা! টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়ার বছর ছিল ২০২৫। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে নিজেদ্র ইতিহাসের সর্বাধিক ছক্কা হাঁকিয়েছেন টাইগার ব্যাটাররা। এছাড়াও টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডটাও এসেছে ২০২৫ সালে।
গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু রক্ষনাত্মক মানসিকতায় সেই সম্ভাবনা ধুলোতে লুটোপুটি খেয়েছে। এরপরই যেন টনক নড়ে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই দলের চিত্র আমুলে বদলে ফেলার শুরু।
সে যাত্রায় লিটন কুমার দাস বনে গেলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে তিনিও রেকর্ড গড়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন লিটন। এছাড়া এই বছরে বাংলাদেশ সর্বাধিক ১৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে। মোট ম্যাচের ৫০ শতাংশ ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে লিটন ও তার দল।

এর মূল কারণ, ব্যাটারদের পরিবর্তীত আক্রমণাত্মক মানসিকতা। বাংলাদেশের ব্যাটাররা বাউন্ডারি হাঁকানোর হীনমন্যতা থেকে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছেন। এ কারণেই ২০২৫ সালে ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশ দল ছক্কা হাঁকিয়েছে ২০৬টি। গড়ে প্রতি ম্যাচে ছক্কা সংখ্যা ৬.৮৬। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি প্রায় সাতটি করে ছক্কা এসেছে বাংলাদেশি ব্যাটারদের ব্যাট থেকে।
যার মধ্যে সর্বাধিক ৪১টি ছক্কা মেরেছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন আরেক বা-হাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তার ছক্কার সংখ্যা ৩৪টি। এর আগে গত বছর ২৪ ম্যাচে ১২২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। গড়ে প্রতি ম্যাচে পাঁচের একটু বেশি সংখ্যক ওভার বাউন্ডারির দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
এর আগে কখনোই এক পঞ্জিকাবর্ষে ১০০ ছক্কাও হাঁকাতে পারেননি বাংলাদেশ দল। অতএব পরিবর্তনটা যে ইতিবাচক, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু এই পরিবর্তনই তো শেষ কথা নয়। সফলতা প্রয়োজন। শিরোপা জেতার যে অপেক্ষা সেটার অবসান ঘটুক এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায়- সেটুকুই তো প্রত্যাশা।












