বিনা উইকেটে ১০৯ থেকে ছয় উইকেটে ১১৮। আরও একবার বাংলাদেশের ‘দ্য গ্রেট ব্যাটিং কলাপ্স’! চোখের পলকে নেই ছয় উইকেট। কারণ অনুসন্ধানে খালি চোখে মিডল অর্ডার ক্রাইসিস ধরা খাবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসবে মিডল অর্ডার ব্যাটাররা কি তবে অফফর্মে? কিন্তু আরও একটি প্রশ্ন চলেই আসে সাথে সাথে, বাংলাদেশ দলে আপনি কোন মিডল অর্ডার ব্যাটার খুঁজে পাচ্ছেন?
শেষ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, না। বাংলাদেশের বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলটা চাইলেও আপনি মিডল অর্ডার ব্যাটার খুঁজে পাবেন না। এক তাওহীদ হৃদয় ছিলেন বটে। তবে আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ছিলেন না একাদশে। চার থেকে ছয় এই তিনটি পজিশনে খেলেছেন যথাক্রমে জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান।
এদের কারো নাম কি মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে প্রসিদ্ধ? এই প্রশ্নের উত্তরও, না। এরা প্রত্যেকে লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটার। মিডল অর্ডার ব্যাটার আর লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটারের পার্থক্য কি? প্রথমত, প্রস্তুতি, দ্বিতীয়ত মাইন্ডসেট। সারাবিশ্বে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা- ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করা।

মিডল ওভারগুলোতে ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের চাইতেও ইনিংস বড় করা, ইনিংসের হাল ধরা, ওপেনিংয়ের ভীতের উপর জয়ের ইমারত গড়ার কাজ করা বেশি জরুরি। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে ফিল্ডিংয়ের গ্যাপ খুঁজে স্ট্রাইক রোটেশন। একজন মিডল অর্ডার ব্যাটার, তার পুরো জীবন জুড়ে এই জিনিসটিই শেখেন। তিনি সেভাবেই নিজের ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি নেন।
একজন লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটারের দায়িত্ব থাকে শেষের দিকে দ্রুত রান তোলা। তাকে সেজন্য পেশিশক্তি বাড়াতে হয়। বড় বড় শট খেলার প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রতিটা বলে আক্রমণের মানসিকতা নিয়ে ব্যাট চালাতে হয়। সুতরাং এই দুইজনের মানসিক ও ব্যাটিং প্রস্তুতি তো ভিন্ন- এ কথা তো সত্য। আর এখানেই বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্ট করছে গণ্ডগোল।
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। বাংলাদেশ দল ১৩৫ রান তাড়া করে জিততে পারেনি। সেদিনও একাদশে ছিল জাত মিডল অর্ডার ব্যাটারের অভাব। তার খেসারত দিয়েছে বাংলাদেশ, ফাইনালের টিকিট হাতছাড়া করে। এই ধারা চলতেই থাকবে যতদিন অবধি বাংলাদেশ দল সমস্যার সমাধান না করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইবে।

মিডল অর্ডার ব্যাটারদের অফফর্ম যেতেই পারে। তবুও জাত মিডল অর্ডারের পরিবর্তে একজন ফিনিশার কিংবা লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটার ব্যবহার আত্মঘাতি সিধান্ত। প্রতি পদে পদে বাংলাদেশ দল সে প্রমাণটা পাচ্ছে। এমনকি একজন টপ অর্ডার ব্যাটারকেও আপনি চাইলে মিডল অর্ডারে ঠেলে দিতে পারেন না। কেননা, তারও স্কিল ট্রেনিং ও মানসিক প্রস্তুতি ভিন্ন।
গোড়ায় গলদ রেখে, গাছের মগডালে পানি ঢেলে অন্তত উপকার পাওয়া যাবে না। অতএব বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারের এই ভঙ্গুর অবস্থা পরিবর্তনে দলে মিডল অর্ডার ব্যাটারকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ব্যর্থ হলেও স্বভাবজাত ব্যাটারদের তাদের পজিশন অনুযায়ী খেলাতে হবে। আর তাতেও সমাধান না মিললে, পাইপলাইন থেকে ওই পজিশনের খেলোয়াড়কেই সুযোগ দিতে হবে। নতুবা এই চক্র অন্ততকাল ধরে একই পরিধিতে বৃত্তাকার পথ অতিক্রম করতেই থাকবে, করতেই থাকবে।











