এশিয়া কাপের বাংলাদেশের প্রথম বাঁধা হংকং। একটি মাত্র টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচটাতে অবশ্য পরাজয়ের গ্লানি মেখে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। তাছাড়া হংকং ইতোমধ্যেই বিশাল ব্যবধানে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। রানরেটে বহুদূর এগিয়ে গেছে আফগানরা। এমন পরিস্থিতিতে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকছে না বাংলাদেশের সামনে।
অতএব বেশ অনুমিত একটা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। ওপেনিংয়ে যথারীতি থাকবেন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুইজনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল কল্পনা করা কঠিন। এই দুই ব্যাটারের আগ্রাসী শুরু বাংলাদেশের জন্যে শক্ত ভীত গড়ার কাজটা করে দিচ্ছে। অতএব ইনজুরি সমস্যায় না পড়লে, গোটা এশিয়া কাপেই এই জুটির উপর ভরসা করবে টিম টাইগার্স।
তিন নম্বরে যথারীতি লিটন কুমার দাস। নিকট অতীতে তিনি নিজের চেনা ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি, বড় ইনিংসের দেখাও মিলেছে লিটনের কাছ থেকে। অতএব তার উপর সকলেরই থাকছে বাড়তি নজর। এরপরের স্থানে কে খেলবেন- তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠতে পারে। যেহেতু তাওহীদ হৃদয় খানিকটা ফর্মহীনতায় ভুগছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে হৃদয়কে আরও একটি সুযোগ দিতে চলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

যেহেতু হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ, হৃদয়ের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্যে হতে পারে ভাল মাধ্যম। তবে হৃদয়কে সুযোগ দেওয়া হলেও চার নম্বরে নয়, তিনি হয়ত ব্যাটিং করতে নামবেন পাঁচে। চার নম্বরে দেখা যেতে পারে মোহাম্মদ সাইফকে। দলে অলরাউন্ডারের আধিক্য প্রয়োজন। আর যেহেতু স্পিনারদের বিপক্ষে সাইফের বাউন্ডারি হাঁকানো প্রবণতা রয়েছে, সেহেতু তিনি প্রাধান্য পেতে চলেছেন। এক্ষেত্রে কপাল পুড়তে চলেছে শামীম হোসেন পাটোয়ারির।
এরপরের যথারীতি ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে জাকের আলী অনিককেরও বিকল্প নেই বাংলাদেশ দলে। শেষের দিকে দ্রুত রান তোলা ও বড় বড় সব শটে মোমেন্টাম ঘোরানোর জন্যে জাকেরই বাংলাদেশের সম্বল। পাঁচ বোলারের মধ্যে শেখ মেহেদীও প্রায় অটোচয়েজ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই বছরটা মেহেদীর কেটেছে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। তবুও তার উপরই ভরসা রাখতে চলেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।
স্বাভাবিকভাবেই তিন পেসার নিয়ে খেলতে চাইবে বাংলাদেশ দল। দলের প্রিমিয়াম দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান এশিয়া কাপের সবগুলো ম্যাচেই হয়ত একাদশে থাকবেন, ইনজুরি বাঁধা হয়ে না দাঁড়ালে। তাদের সাথে তৃতীয় পেসার হিসেবে হংকংয়ের বিপক্ষে শরিফুল ইসলামকে একাদশে দেখার সম্ভাবনাই বেশি। যেহেতু আবু ধাবির উইকেটে বল সুইং করতে দেখা গেছে প্রথম ম্যাচে।

সে কারণেই তানজিম হাসান সাকিবের পরিবর্তে শরিফুলকে দেওয়া হবে প্রাধান্য। রইল বাকি একটি স্থান, কে হবে দ্বিতীয় স্পিনার? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে রিশাদ হোসেন। সম্ভবত রিশাদ এশিয়া কাপে তার নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলতে চলেছেন। কেননা তিনি এই ম্যাচে পারফরম করলে কেবল তবেই হয়ত দ্বিতীয় সুযোগ পাবেন। নতুবা তাকে বাকিটা সময় সাইডলাইনে বসেই উপভোগ করতে হতে পারে গোটা টুর্নামেন্ট।
বাংলাদেশের (সম্ভাব্য) একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।











