ইনিংসের একেবারে প্রথম ওভারে বাংলাদেশ পেয়েছিল শুভসূচনা। প্রথম ওভারেই হাসান মাহমুদ তুলে নিয়েছিলেন আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নির উইকেট। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহড়াতে সেই দারুণ শুরুকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ দল।
টসে জিতে আয়ারল্যান্ড সোজাসাপ্টা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। সিলেটের উইকেটে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত না নেওয়ার বিশেষ কোন কারণ নেই। ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটা বেশ ভাল। তাছাড়া বড় সংগ্রহের চাপে ফেলা গেলে, বাংলাদেশকে নাস্তানাবুদ করতে পারবে আইরিশরা।
এমন ভাবনাতে প্রথম আঘাতটাই করে বসেন হাসান মাহমুদ। লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে তিনি আউট করে আইরিশ অধিনায়ককে। এরপর সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই অলআউট হয়ে যেতে পারত আয়ারল্যান্ড। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং ব্যর্থতায় তেমনটি আর হয়নি।

প্রথম উইকেট পতনের পরপরই নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে তিন তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন- সাদমান ইসলাম, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে করে দিনের প্রথম সেশনে চালকের আসনে থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় আয়ারল্যান্ড। তখন তাদের সংগ্রহ ছিল এক উইকেটে ৯৪ রান। অথচ নিদেনপক্ষে আরও তিনখানা উইকেট থাকতেই পারত বাংলাদেশি বোলারদের ট্যালিতে।
সেই তিনখানা উইকেট অবশ্য যুক্ত হয়েছে বটে, কিন্তু তা দিনের দ্বিতীয় সেশনে। মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাতের সাথে নাহিদ রানার গতিশীল আক্রমণে ১৮৪ রানে ৪ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের পক্ষে ফিফটি হাঁকানো পল স্টার্লিং ও কেড কারমাইকেল ফিরে যান চা বিরতির আগেই।
চা বিরতি থেকে ফিরে, প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কার্টিস ক্যাম্ফার ও লরকান টাকার। এই দুই জনের ৫৩ রানের জুটি ভাঙে হাসান মুরাদের হাত ধরে। সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নিতে দেননি মূলত অভিষিক্ত হাসান মুরাদ। তার টাইট বোলিংয়ের অবলীলায় অন্তত রান জড়ো করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড।

দিনের শেষ সেশনে মুরাদের দুই উইকেটসহ, মোট চার উইকেট তুলে নেয় টাইগার স্পিনাররা। দিনের খেলার একেবারে শেষ বলে তাইজুল তুলে নেন জর্ডান নেইলের উইকেট। তাতে করে আট উইকেটে ২৭০ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় দিনের সকালবেলা আরও অন্তত ৩০টি রান যুক্ত করতে চাইবে তারা। ৩০০ রানের মানসিক একটা চাপ ঠেলে দিতে চাইবে তারা বাংলাদেশের কোর্টে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টার মধ্যেই বাংলাদেশ চাইবে আয়ারল্যান্ডকে গুটিয়ে দিতে। তবে প্রথম দিনের মত ক্যাচ মিসের মহড়া চললে- সে কাজটি কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাতে করে ম্যাচের মোমেন্টাম ঝুকে যেতে পারে আয়ারল্যান্ডের দিকে। বাংলাদেশকে যে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে হবে।











