সহজ জয়কে কঠিন করে জিতল বাংলাদেশ। অনবদ্য ওপেনিং জুটির পরও দুশ্চিন্তার ঘাম ঝড়েছে টাইগারদের কপাল থেকে। রশিদ খানের স্পিনবিষে নীল হয়েছে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। তবুও শেষ অবধি জয় পাওয়ায় অন্তত নেওয়া যাচ্ছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।
টসে জিতে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারে ইব্রাহিম জাদরান হাঁকালেন তিনটি চার। আভাস দিচ্ছিলেন, বড় সংগ্রহ গড়ার। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে নাসুম আহমেদ এসে রানের চাকার লাগাম টেনে ধরেন। এরপর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে নাসুম প্যাভিলিয়নে পাঠান ইব্রাহিম জাদরানকে।
শুরুর সেই সম্ভাবনা সেখান থেকেই স্তিমিত হতে থাকে। ২৫ থেকে ৪০, এই ১৫ রানের মধ্যে আফগানিস্তান হারায় চার উইকেট। এরমধ্যেও রহমানুল্লাহ গুরবাজ হাল ধরার কাজটি করে যেতে থাকেন। তবে সেটাও ছিল না যথেষ্ট, মোটামুটি একটা লড়াকু সংগ্রহ গড়ার জন্য।

দলের বাকিরা সেই অর্থে নিজেদের মেলে ধরতে পারছিলেন না। ব্যক্তিগত ৪০ রানের মাথায় গুরবাজ ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার পর আফগানদের সংগ্রহ স্বল্পতেই থেমে যাওয়ার শঙ্কা জাগে। কিন্তু সেই শঙ্কার বিপরীতে দাঁড়িয়ে যান অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী। ২৫ বলে ৩৮ রানের একটা মৃদু ঝড় তোলেন নবী। তাতে করে ১৫১ রানের সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে, সলিড শুরু পায় বাংলাদেশ দল। এশিয়া কাপে ব্যর্থ হলেও তানজিদ তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের ওপেনিং জুটি ফেরে নিজেদের চেনা ফর্মে। দুই জনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যান। আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে ব্যাটও চালিয়েছেন সমানতালে। দুই জনে তুলে নিয়েছেন ব্যক্তিগত অর্ধশত রান।
দুইজনে মিলে গড়েন ১০৯ রানের ওপেনিং জুটি। ৩৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে ইমন বিদায় নেন। তবে ততক্ষণে বাংলাদেশের জয়ের ভীত গড়ার কাজ শেষ। কিন্তু সেই ভীতের উপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত জয় পেতে দেননি রশিদ খান। দশ বলের ব্যবধানে চার উইকেট তুলে নিয়ে টাইগারদের পরাজয়ের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ দলের ভঙ্গুর মিডল অর্ডারের দুর্দশা আরও একবার এঁকেছে বিবর্ণ চিত্র। কিন্তু শেষ অবধি নুরুল হাসানের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং ও রিশাদ হোসেনের আগ্রসনের সামনে আর টেকেনি আফগানদের ঘূর্ণি জাদু। চার উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জাকের আলি অনিকের দল।











